বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মানদণ্ডে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক, সাহসী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত একশত আশি দিনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের একটি সামগ্রিক চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, চলতি বাজেট অধিবেশনে সরকারপ্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
এর ফলে, কোনোভাবেই অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থকে শুধুমাত্র কর প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় প্রবেশের সুযোগ আর দেওয়া হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের সৎ করদাতাদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করবে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাশাপাশি, প্রস্তাবিত এই বাজেট মূলত দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। অর্থনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে এই ব্রিফিংয়ে।
চিফ হুইপ জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই সারা দেশের প্রতিটি উপযুক্ত ও দরিদ্র পরিবারের দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তার ‘পারিবারিক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এর মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কঠিন সময়েও প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করা অনেকাংশে সম্ভব হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার।
আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে বিশ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন বা পুনর্খনন করার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত কার্যকরী হবে।
একই সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণের এক ঐতিহাসিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনাগুলো কেবল দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই তরান্বিত করবে না।
বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, দুর্নীতিমুক্ত ও বাসযোগ্য পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রবাহ বন্ধ হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ভিত্তি আরও মজবুত করবে।