বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী এসব সাহসী শান্তিরক্ষীকে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে সুদানে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং সম্প্রতি বিভিন্ন কার্যক্রমে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্মরত সদস্যদের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কুশল বিনিময় করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষীদের এই আত্মদান শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মাতৃভূমির সীমানা ছাড়িয়ে জাতিসংঘের পতাকাতলে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বদ্ধপরিকর বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান, এ পর্যন্ত সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর দুই লক্ষাধিক সদস্য ৪৩টি দেশের ৬৩টি শান্তি কার্যক্রমে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
বর্তমানে বিশ্বের ১০টি অঞ্চলে ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন, যা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দেশের স্বাধীনতা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতির জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস।
এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি। অতীতের নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাকধারী বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকার প্রধান শর্ত হলো পেশাদারত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং যথাযথ আদেশক্রম মেনে চলা।
অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর তাগিদ দেন তিনি।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, গণমাধ্যমের অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট বিশ্বশান্তির পথে নতুন অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ কার্যক্রমগুলোকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দূরদর্শী করে তুলতে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।