রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে সদ্য সৃষ্ট তারল্য সংকট মোকাবিলায় আড়াই হাজার কোটি টাকার জরুরি অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

ব্যাংকটির শীর্ষ পদে আকস্মিক পরিবর্তনের জেরে গ্রাহকদের মধ্যে সৃষ্ট আস্থাহীনতা এবং ব্যাপক মাত্রায় আমানত প্রত্যাহারের কারণে এই তীব্র আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হয়। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমের কাছে এই বিশেষ অর্থায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, এই জরুরি সহায়তার আওতায় দুই হাজার কোটি টাকা সরাসরি নগদ অর্থ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি, গ্রাহকদের আন্তঃব্যাংক লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস সেবা নিরবচ্ছিন্ন ও সচল রাখতে অতিরিক্ত আরও ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

মূলত, সম্প্রতি ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহক ও অংশীজনদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়।

 

এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাংকটি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নেন আতঙ্কিত গ্রাহকরা। এই টানা আমানত উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটির ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর মারাত্মকভাবে কমে যায়।

 

নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির সিআরআর প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা থাকার কথা থাকলেও, তা অস্বাভাবিক হারে কমে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে দৈনন্দিন লেনদেনের চাপ সামলাতে ব্যাংকটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল।

 

এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মোট ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তার আবেদন করেছিল, যার বিপরীতে এই প্রাথমিক ছাড়পত্র দেওয়া হলো।

 

এই গভীর অস্থিরতার মূল সূত্রপাত ঘটে গত ২৪ মে। সেদিন ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. জুবায়দুর রহমান আকস্মিকভাবে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং একই দিনে মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

 

এই আকস্মিক রদবদলের পর থেকেই ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে ব্যাংকটির মতিঝিলস্থ প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

 

আন্দোলনকারী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ, বিতর্কিত নিয়োগের কারণে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চলমান সংস্কার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তারা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং দাবি আদায় না হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

অন্যদিকে, ব্যাংকটির চলমান এই সংকট নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। গত শুক্রবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবৈধ বা অনিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগে গত ১৬ মার্চ শুধুমাত্র একজন সদস্যকে পরিবর্তন করা হয়েছে।

 

এর বাইরে বদলি বা পদোন্নতির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি জানিয়ে গভর্নর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকটিকে ঘিরে সরকারি হস্তক্ষেপের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বাস্তবে তার কোনো সত্যতা নেই।