শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনা চোরাচালানের সন্দেহে চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশের মারধর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

সোনা চোরাচালানের সন্দেহে চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশের মারধর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সোনা চোরাচালানকারী সন্দেহে ভুলবশত জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর লালখান বাজার ফ্লাইওভার এলাকায় তল্লাশি চৌকিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন চরম অপেশাদার আচরণের পর অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ঘটনাটি দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

 

সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে সোনা পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতে ফ্লাইওভারের মুখে চেকপোস্ট স্থাপন করে খুলশী থানা পুলিশ।

 

রাজধানী ঢাকায় একটি পেশাদার ক্রিকেট ম্যাচ শেষে গভীর রাতে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় করে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ক্রিকেটার নাঈম। এ সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল তাকে বহনকারী যানটি থামায়।

 

নাঈম নিজের পরিচয় প্রদান করে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ এবং তাদের এক বেসামরিক সোর্স তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাকে জাতীয় দলের সুপরিচিত ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করার চেষ্টা করলেও অভিযানকারীরা তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি।

 

উল্টো তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগী ক্রিকেটার ও তার পরিবারের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পরও হয়রানি থামেনি। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং নাঈমকে অপমানজনক কথা বলেন।

 

তবে কিছুক্ষণ পর একটি অজ্ঞাত ফোন কল আসার পর হঠাৎ করেই ওসির আচরণে পরিবর্তন আসে। যদিও গণমাধ্যমের কাছে ওসি আরিফুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি এই অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।

 

থানায় নাঈমকে দেখার পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তিনি তাকে সসম্মানে ছেড়ে দিয়েছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের ব্যবহৃত কোনো অটোরিকশায় হয়তো নাঈম উঠেছিলেন, আর সেখান থেকেই এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয়েছে।

 

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে নাঈমের বড় ভাই বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ব্যক্তিগতভাবে নাঈমের বাসায় গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি পুলিশের এই আচরণকে চরম অপেশাদার বলে স্বীকার করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

 

উল্লেখ্য, পুলিশের সংশ্লিষ্ট ওসির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপেশাদারিত্বের নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রশাসন বর্তমানে পুরো ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।