বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই সুবিশাল বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় দেশের সড়ক, সেতু, রেলপথ, নৌপথ এবং আকাশপথের ব্যাপক আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সড়ক ও সেতু অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সরকার একটি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
এই পরিকল্পনার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে চার লেনে উন্নীত করা, প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড নির্মাণ এবং ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে রিং ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ছয়টি মেট্রোরেল লাইন এবং মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। রেলপথ আধুনিকায়নে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। তিনি জানান, দেশের সকল জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন করা হবে।
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে এই পথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। এছাড়া আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, উচ্চগতির রেল সংযোগ চালু এবং চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী ও দক্ষ করতে নৌপথের ব্যাপক উন্নয়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে বাজেটে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে খননকাজ জোরদার করার মাধ্যমে বছরজুড়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নেও বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নতুন বিনিয়োগের রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই বিপুল বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ও লজিস্টিকস খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে সরকার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।