রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

রামিসা হত্যার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে মহামান্য আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

 

দীর্ঘ শুনানির পর রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিল দাখিলের সময় তিনি তার নৃশংস কর্মকাণ্ডের পেছনে তীব্র আর্থিক সংকট, পারিবারিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির বিষয়টিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া এই আসামি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি পুরোপুরি সচেতন ছিলেন না এবং মাদকাসক্ত অবস্থার কারণে অবচেতন মনেই এই জঘন্য অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে।

 

আদালতে দাখিল করা জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা মিস্ত্রি এবং চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন। নিজের অপরাধবোধের কথা প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, ইয়াবা সেবনের মতো ধ্বংসাত্মক নেশার কারণে তার পারিবারিক জীবনে প্রতিনিয়ত অশান্তি বিরাজ করত।

 

আদালতের কাছে তিনি করুণা চেয়ে বলেন, এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। পরিস্থিতির চাপে ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অবচেতনভাবে যে অমানবিক ঘটনাটি ঘটে গেছে, তা তিনি নিজের অজান্তেই করেছেন।

 

জবানবন্দিতে তিনি নিজের একমাত্র সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে এই একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি এবং সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন এবং আদালতের কাছে খালাস চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।

 

গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে এই জেল আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। রোববার হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের আপিল আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নিম্ন আদালতের রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

এখন উচ্চ আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আইনি কার্যক্রমের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল।

 

বিচার বিভাগীয় এই চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।