বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে দেশের আগামী এক বছরের আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক রূপরেখা বা বাজেট পেশ করতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে এই বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেট প্রণয়নের সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন পর দেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই বাজেট ঘিরে দেশবাসীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ অনেক বিশাল।
জনগণের সেই গভীর চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে ধারণ করেই সম্পূর্ণ বাজেটটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাজানো হয়েছে। একটি নির্বাচিত সরকারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রের যতটুকু বাস্তবসম্মত আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, ঠিক তার সীমারেখার মধ্যেই এই বাজেটটি তৈরি করতে হয়েছে।
একটি অত্যন্ত বিধ্বস্ত, ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সর্বপ্রথম স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনা এবং পরবর্তীতে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প এই বাজেটের পরতে পরতে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই সুবিশাল বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বিশদভাবে জানান যে, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্বজনীনতা। দেশের প্রতিটি নাগরিককে অর্থনীতির মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাজেটে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ও অর্থনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি অংশ নিতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক ও সাধারণ স্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেই বিষয়টিকে বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়েই সরকারের এই নতুন আয়-ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।