শুধু তাই নয়, জন্মগতভাবে শিশুটির মুখে কোনো জিহ্বা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ড্রিম অ্যান্ড হেলথ কেয়ার হাসপাতালে এই ব্যতিক্রমী শিশুটির জন্ম হয়।
জন্মের পরপরই এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নবজাতকটিকে একনজর দেখার জন্য হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্থানীয় মানুষ ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপক ভিড় জমে ওঠে। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের দুই হাত ও দুই পায়ে মোট বিশটি আঙুল থাকে।
কিন্তু সদ্যোজাত এই শিশুটির দুই হাতে ষোলোটি এবং দুই পায়ে চৌদ্দটি মিলিয়ে মোট ত্রিশটি আঙুল রয়েছে। নবজাতকটির পিতার নাম ইসমাইল পালোহন। তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নের ভোলমারা গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেশায় একজন হতদরিদ্র দিনমজুর।
মাতা জেসমিন আক্তারের গর্ভে জন্ম নেওয়া এটি তাদের পঞ্চম সন্তান। পরিবারের অন্য চার সন্তান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক গঠন নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও, এই নবজাতকের এমন বিরল জন্মগত ত্রুটি দেখে পরিবার ও স্বজনরা প্রাথমিকভাবে চরম হতবাক হয়ে পড়েন।
তবে একজন মমতাময়ী মা হিসেবে জেসমিন আক্তার তার এই নবজাতক সন্তানকেও অন্য সব সন্তানের মতোই পরম স্নেহে বুকে টেনে নিয়েছেন এবং তাকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিরল শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করার এই বিশেষ অবস্থাকে 'পলিড্যাকটিলিজম' বলা হয়ে থাকে।
এটি অপেক্ষাকৃত পরিচিত হলেও, শিশুটির মুখে জিহ্বা না থাকার যে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল একটি জন্মগত ত্রুটি। এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসার সঠিক রূপরেখা নির্ধারণের জন্য শিশুটিকে আরও নিবিড় ও উন্নততর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।
উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলে শিশুটির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে। এদিকে, হতদরিদ্র এই পরিবারটির জন্য শিশুটির এমন বিরল শারীরিক ত্রুটি বর্তমানে এক বিশাল মানসিক ও আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চরম দারিদ্র্য তাদের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। চরম হতাশা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শিশুটির মা জেসমিন আক্তার জানান, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার সামান্য খরচটুকুও তাকে মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে মেটাতে হয়েছে।
এখন এই নবজাতকের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা কীভাবে চালাবেন, তা ভেবে তিনি রীতিমতো দিশেহারা। এই কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে শিশুটির সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ব্যক্তি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় এই মা। পাশাপাশি সন্তানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়েছেন শিশুটির স্বজনরা।