নতুন এই অর্থবছরের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রতিরক্ষা খাতে সর্বমোট ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বেশি।
উল্লেখ্য, সমাপ্তপ্রায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রাথমিক বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে কিছুটা কমে ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।
জাতীয় নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় ও সময়োপযোগী করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই বর্ধিত বরাদ্দের সময়োচিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই জাতীয় বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটের বিস্তারিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিভাগের অপরিহার্য পরিচালন ব্যয় হিসেবে আরও ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকার অর্থসংস্থান রাখা হয়েছে। মূলত সামরিক বাহিনীর কাঠামোগত আধুনিকায়ন, উন্নততর প্রশিক্ষণ এবং সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই ব্যয়ের এই সুষম ও সুচিন্তিত বণ্টন করা হয়েছে।
সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের জন্য এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিপুল প্রত্যাশার এই বাজেট সংসদে পেশ করেন।
এবারের প্রস্তাবিত সর্বমোট বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
ফলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল আর্থিক ব্যবধান বা ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই সুবিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-উভয় অর্থনৈতিক উৎসের ওপরই নির্ভর করার দূরদর্শী কৌশল গ্রহণ করেছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বলয় থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার অর্থসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সংসদ নেতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই অর্থবছর দেশব্যাপী কার্যকর হবে।