শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুর সীমান্তে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের দৃঢ়তায় ব্যর্থ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

মেহেরপুর সীমান্তে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের দৃঢ়তায় ব্যর্থ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মেহেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর একটি অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

 

শুক্রবার ভোরে মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মনীতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ভারতীয় বাহিনীর এই জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী সদস্যদের চরম পেশাদারিত্ব এবং তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপের কারণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে উক্ত সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরের আলো পরিষ্কার হওয়ার আগেই বুড়িপোতা সীমান্তের খালপাড়া এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমারেখার শূন্যরেখার ওপারে চারজন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

 

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অবহিত করা হয়। খবর পাওয়া মাত্রই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।

 

বাংলাদেশের রক্ষীদের এই দৃঢ় ও আপসহীন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা ওই চার ব্যক্তিকে বাংলাদেশের সীমানার ভেতর ঠেলে দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।

 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঘটনাস্থলের ঠিক বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার অন্তর্গত নাটনা সীমান্তরক্ষী ঘাঁটি অবস্থিত, যেখান থেকে এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, সীমান্তে আটকে পড়া ওই চার ব্যক্তির মধ্যে একজন পুরুষ এবং তিনজন নারী রয়েছেন। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারক স্তম্ভ পনেরো এবং ষোলোর মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অত্যন্ত মানবেতর ও অনিশ্চিত এক অবস্থায় অবস্থান করছেন।

 

এখন পর্যন্ত ওই চার ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়, নাগরিকত্ব বা তাদের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তারা আদৌ ভারতীয় নাগরিক, নাকি অন্য কোনো দেশের অধিবাসী, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা কোনো পক্ষ থেকে মেলেনি।

 

তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং রাতের অন্ধকারে নতুন করে যাতে কোনো জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটতে পারে, সে জন্য স্থানীয় গ্রামবাসীও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সীমান্তরক্ষীদের পাশাপাশি শূন্যরেখার কাছাকাছি এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

 

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-ছয় এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান গণমাধ্যমের কাছে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেছেন।

 

তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, শুক্রবার ভোরে মেহেরপুর সীমান্তে চারজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানোর একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা সফলভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করা হয়েছে।

 

পরিস্থিতি যেন পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে সমগ্র সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা নজরদারি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বদা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।