মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘ সফর নিয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

জাতিসংঘ সফর নিয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একচল্লিশতম (৮১তম) অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরতে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হওয়ায় দেশবাসীর সামনে এর বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল তিন ঘটিকায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘করবী হলে’ এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান এবং কূটনৈতিক সফলতার বিভিন্ন দিক পরিষ্কারভাবে গণমাধ্যমের সামনে উন্মোচন করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল অংশগ্রহণ এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি এই সংবাদ সম্মেলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

 

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে ভাষণ দান, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের মতো জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন।

 

এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর ফলাফল ও তাৎপর্যও এই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

আসন্ন এই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করবেন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং নিউইয়র্ক সফরের সামগ্রিক সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরবেন।

 

সরকারের এই শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্রদের উপস্থিতি সংবাদ সম্মেলনটিকে আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যবহুল এবং প্রামাণ্য রূপ দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক গুরুত্ব এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নীতির সামঞ্জস্য রক্ষায় এই ধরনের সংবাদ সম্মেলন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বরাবরই একটি ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এবারের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের জোরালো উপস্থিতি বিশ্বমঞ্চে দেশের সম্মান ও মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।

 

বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির অত্যন্ত সংকটময় ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

 

বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা, বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে এই সফর বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির রূপরেখাও তুলে ধরা হতে পারে।

 

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের প্রতি বর্তমান সরকারের যে দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রতিনিধিরা এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং তারা সরাসরি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ পাবেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মতো অত্যন্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে এই সংবাদটি দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী হল’-এর সুপরিসর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দেশের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বেশি প্রসারণ করার ক্ষেত্রে এই নিউইয়র্ক সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো একটি সর্ববৃহৎ বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের জোরালো কণ্ঠস্বর এবং মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের জোরালো দাবি, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান-এই সমস্ত বিষয় আন্তর্জাতিক ফোরামে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে এই অর্জিত সাফল্যগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের জনগণের সামনে সরকারের কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি স্বচ্ছ চিত্র প্রতিভাত হবে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক সাফল্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ উত্তরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তার সুদূরপ্রসারী সুফল দেশের সাধারণ মানুষ অদূর ভবিষ্যতে ভোগ করতে পারবে।

 

বিশেষ করে জলবায়ু তহবিল গঠন, সবুজ জ্বালানি রূপান্তর এবং বিশ্ব শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। আগামীকালকের এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিবর্গ এই অর্জিত সাফল্যগুলোর গভীরে গিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করবেন, যা সাধারণ মানুষের মনে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করবে।

 

দেশ ও বিদেশের কূটনৈতিক মহলে এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল এবং আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যেভাবে তার কূটনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে, তার একটি নিখুঁত রূপরেখা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

 

দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে স্বাধীনভাবে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অংশ নিতে পারেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে এবং এর মাধ্যমেই নিউইয়র্ক সফরের দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রামাণ্য মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।