অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামের মোঃ হারুনুর রশীদ তাঁর ছেলে মোঃ হাসিবুর রহমানের বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ৯ নম্বর শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ খাদেমুল ইসলাম তাঁর নির্ধারিত অধিক্ষেত্রের বাইরে ১১ নম্বর গণিপুর ইউনিয়নে একটি বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়েটির নিবন্ধন নম্বর ১৩, পাতা নম্বর ৫১, বহি নম্বর ০১ এবং নিবন্ধনের তারিখ ১ মে ২০২৬। বরের জন্মতারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ উল্লেখ করে অভিযোগকারী দাবি করেন, বিয়ে নিবন্ধনের সময় তাঁর ছেলের বয়স ছিল ১৭ বছর ২ মাস ১৯ দিন।
কনে মোছা. মাসুরা আক্তার, পিতা মোঃ আতিকুর রহমান। উভয়ের বাড়ি বাগমারা উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ছয় লাখ টাকা।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ১১ নম্বর গণিপুর ইউনিয়নে ১. মো হবিবুর সাং হাসনিপুর ২. মো রবিউল ইসলাম সাং আচিনঘাট, ৩. মোঃ মোজাম্মেল হক, সাং লাউপাড়া, ৪. মোঃ আলতাফ সাং মোহনগন্জ, ৫. জাব্বার সাং পোড়াকয়া, ৬. আবু সায়েম সাং একডালা, সহকারীর দ্বারা বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিয়ের নিবন্ধন বাতিল এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা আবেদনটির তদন্তের দায়িত্ব বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর দেওয়া হয়।
পরে ২৮ অক্টোবর বুধবার উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি ও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত শেষে নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ খাদেমুল ইসলামকে অপরাধী সাব্যস্ত করে তাঁর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর। অভিযোগে উল্লেখিত জন্মতারিখ সঠিক হলে, বিয়ের সময় বরের বয়স ২১ বছরের কম ছিল।
ফলে বিয়েটির নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল, নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক বিবরণ এবং বিয়ের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।