মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী লক্ষ্যমাত্রার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক মানের প্রদর্শনীর এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতের আয় বাড়াই’।
এই স্লোগান মূলত দেশের প্রতিটি নাগরিককে সৌরশক্তি উৎপাদনে সম্পৃক্ত করার একটি জাতীয় আহ্বানের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগকে আরও গতিশীল এবং সহজতর করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রণয়ন করেছে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই অধ্যাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, দেশে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন ও এর সার্বিক সম্প্রসারণ অত্যন্ত সহজ করতে এই আইনি কাঠামো বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।
শুধু তাই নয়, এই সম্ভাবনাময় খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে সরকার নানাবিধ নীতিগত সহায়তা, আকর্ষণীয় কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছে।
সরকারের এই পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ এই পরিচ্ছন্ন শক্তি সংযোগ করা সম্ভব হবে। সরকার চায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন এবং সাধারণ বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হোক।
এই প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করতে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় কোনো গ্রাহক নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারলে, সরকার বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রতি ইউনিট দশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা হারে সেই বিদ্যুৎ ক্রয় করবে।
এটি সাধারণ মানুষের জন্য আয়ের একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী উৎস হতে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত পৃথিবী রেখে যাওয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদার অন্তত বিশ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তা ত্রিশ শতাংশে উন্নীত করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত হবে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কেবল সরকার বা বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং আপামর জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই অসম্ভব নয় বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি সূর্যের অপরিসীম আলোকে দেশের অমূল্য সম্পদে রূপান্তরিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠানে ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তরুণদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে দেশের প্রায় তিন শতাধিক মেধাবী তরুণ-তরুণী এই প্রতিযোগিতায় তাঁদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের এই মেধার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, তরুণ প্রজন্মের একটি ক্ষুদ্র উদ্ভাবনী ধারণাও দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।
অর্থাভাবে দেশের তরুণদের কোনো সম্ভাবনা যেন অঙ্কুরে বিনষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে চলমান জাতীয় বাজেটে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য পাঁচশত কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
প্রদর্শনী শেষে প্রধানমন্ত্রী সোলার এক্সপো-২০২৬-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তারাই যে এই সবুজ বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি, তা স্মরণ করিয়ে দেন। নবায়নযোগ্য শক্তির এই সম্প্রসারণকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে সরকার প্রাথমিকভাবে এক হাজার পাঁচশত কোটি টাকার একটি বিশাল তহবিল গঠন করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
একটি স্বনির্ভর ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে অতীতে যে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও অনিয়ম হয়েছে, তার পরিবর্তে আধুনিক ও সাশ্রয়ী পন্থায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে সম্ভব।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেবল আর একটি সম্ভাবনা নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অনিবার্য ও অপরিহার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। বিগত সরকারের ভ্রান্ত নীতি ও দূরদর্শিতার অভাবের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশকে পরিকল্পিতভাবে একটি সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।
এর ফলে যখনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো যুদ্ধ বা বৈশ্বিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তখনই আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং দেশ এক ভয়াবহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের সম্মুখীন হয়। সেই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের নেতিবাচক প্রভাব আজও দেশের সাধারণ জনগণ ও অর্থনীতিকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার কী পরিমাণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার একটি স্পষ্ট চিত্রও উঠে আসে এই অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বিদ্যুৎ খাতকে সচল রাখতে সরকারকে তেতাল্লিশ হাজার কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি প্রদান করতে হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরেও সমপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।
দেশে যেন লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ডিজেলের মজুত বৃদ্ধি করা হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কয়লা সরবরাহ ও উৎপাদন নিশ্চিত করার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল ক্রয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য অতিরিক্ত ছয় হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা ও দুর্নীতির ফিরিস্তি নিয়ে অহেতুক সময় নষ্ট না করে, দেশের মানুষকে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়, সেটিই বর্তমান সরকারের প্রধান ও একমাত্র রাজনৈতিক অগ্রাধিকার।
জ্বালানি সংকটের কারণে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চরম ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। তাই চলমান সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা, অসম ও বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা এবং জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকার এখন একযোগে বহুমুখী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ টেনে জানান যে, কাউকে বলার আগেই তিনি নিজে তাঁর বাসভবনে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করেছেন এবং প্রতিদিন তাঁর পরিবারের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার এবং ব্যাটারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলোর দাম সাধারণের হাতের নাগালে রাখতে আমদানি পর্যায় এবং দেশীয় উৎপাদনে ব্যাপক কর ও শুল্ক ছাড় প্রদান করা হয়েছে।
পাশাপাশি গ্রাহকদের সঠিক সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আট হাজারের বেশি সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রতি তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত ও নিবিড় যোগাযোগ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দেশের কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের বৈপ্লবিক ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। তবে এখন পর্যায়ক্রমে দেশের সমস্ত সেচ পাম্পকে পরিবেশবান্ধব সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র এলাকায় ইতোমধ্যে এই কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত সতেরো হাজার সেচ পাম্প সম্পূর্ণভাবে সৌরবিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
পরিশেষে তিনি সাধারণ নাগরিকদের দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার এবং অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী বন্ধ রেখে জাতীয় সম্পদ সাশ্রয় করার বিনীত আহ্বান জানান।
এছাড়াও দেশের এই অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের বড় প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে বৃহৎ বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়াও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য বিশ্লেষক, উদ্যোক্তা এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উপস্থিতিতে এই এক্সপো বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।