রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তাল মিরপুর: পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ এএম

উত্তাল মিরপুর: পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ
ছবি : Collected

বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা আবারও নিজেদের অধিকার আদায়ের তাগিদে রাজপথে নেমে এসেছেন।

 

নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে না পেরে, ন্যূনতম মাসিক বেতন ত্রিশ হাজার টাকা করার এক দফা এবং জোরালো দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুর এলাকা।

 

শ্রমিকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও বিশাল বিক্ষোভ একপর্যায়ে চরম সহিংস রূপ ধারণ করে। অবরুদ্ধ সড়ক থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে জনজীবনের স্থবিরতা কাটানো ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

রোববার, পয়লা নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে মিরপুর এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এক অভূতপূর্ব ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা গোটা মহানগরের জনমনে গভীর উদ্বেগ, শঙ্কা ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দৃষ্টিতেও বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলের এই অস্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পোশাকশ্রমিকদের জীবনমান এক চরম সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে শাকসবজি এবং বাসস্থানের ভাড়া-সবকিছুর দাম সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার প্রায় বাইরে চলে গেছে। এই কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা তাদের জীবনমান উন্নয়নের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।

 

তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ন্যূনতম ত্রিশ হাজার টাকা মাসিক বেতনের কোনো বিকল্প নেই।

 

বিষয়টি সুরাহা করার লক্ষ্যে এবং পোশাকশ্রমিকদের বেতন কাঠামোর একটি যৌক্তিক পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

 

সরকারি এই ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট এবং দ্রুত দাবি আদায়ের তাগিদ কাজ করছে, যে কারণে তারা রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, মজুরি বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি এবং আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চেয়ে অবিলম্বে তাদের এই বেঁচে থাকার যৌক্তিক দাবির বাস্তবায়ন অনেক বেশি জরুরি।

 

রোববারের সরেজমিন ঘটনাপ্রবাহের দিকে গভীরভাবে নজর দিলে দেখা যায়, সকালের আলো ফোটার পর থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং প্রধান সড়কগুলো ক্রমশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দখলে চলে যেতে শুরু করে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল নয়টা, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে কর্মজীবী মানুষের গন্তব্যে পৌঁছানোর সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়।

 

ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তেই মিরপুর দশ নম্বর গোলচত্বরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশাল পরিসরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের মূল বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলনের উত্তাপ ও বিশালতা ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর এগারো, বারো নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার তৈরি পোশাক শিল্পাঞ্চলের চারপাশের সড়কগুলোতে।

 

হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শ্রমিক একযোগে এবং সংঘবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসায় এসব এলাকার সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

 

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকা পড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম দুর্ভোগ ও শারীরিক-মানসিক ক্লান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং অফিসগামী হাজারো মানুষ।

 

পরিস্থিতি যখন ক্রমশ জটিল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম ধারণ করে, তখন মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবরুদ্ধ সড়কগুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য মুক্ত করতে পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে এবং আলোচনার মাধ্যমে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার শান্তিপূর্ণ চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে এবং নিজেদের অবস্থানে পুরোপুরি অনড় থাকেন।

 

একপর্যায়ে যানজটের তীব্রতা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তারা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়। জনসমুদ্রের মতো শ্রমিকদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জলকামান ব্যবহার করে।

 

এতেও কাঙ্ক্ষিত কাজ না হওয়ায় এবং শ্রমিকরা উল্টো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং বিকট শব্দের শব্দবোমা নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। মুহুর্মুহু শব্দবোমার আওয়াজ এবং কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

এসময় চারদিকে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে থাকা আতঙ্কিত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক মাত্রায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পুলিশের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে মিরপুরের মূল সড়কগুলো রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

এই সার্বিক অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট এলাকার পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে জানান যে, রোববার সকাল থেকেই মিরপুর দশ, এগারো এবং বারো নম্বরসহ এর চারপাশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আকস্মিকভাবে সড়কে নেমে এসে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন।

 

তাদের এই পূর্বঘোষণাহীন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অবরোধের কারণে ওই এলাকায় জনদুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছায়। যেকোনো ধরনের বড় নাশকতা এড়াতে, পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

তিনি দেশবাসীকে আরও আশ্বস্ত করে বলেন যে, যেকোনো মূল্যে প্রধান সড়কগুলো থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্ব এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তবে দেশের অর্থনীতিকে ভাবিয়ে তোলা এই অস্থিরতার শুরু কেবল রোববারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শনিবার, একত্রিশে অক্টোবরও ঠিক একই দাবিতে মিরপুরের বিস্তীর্ণ রাজপথ ছিল সমানভাবে উত্তপ্ত এবং অবরুদ্ধ।

 

শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে মিরপুর দশ ও এগারো নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়ক অবরোধ করে এক বিশাল ও সুসংগঠিত বিক্ষোভের সূচনা করেছিলেন এই অধিকারবঞ্চিত পোশাকশ্রমিকেরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে একটানা চলা সেই অবরোধের পর দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনের মোড় ভিন্ন দিকে ঘুরে যায়।

 

দশ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে গিয়ে শ্রমিকদের একটি বৃহৎ অংশ মিরপুর এক নম্বরের ঐতিহাসিক মাজারসংলগ্ন বাজার এবং মার্কেট এলাকার দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে তাদের বিশাল জমায়েতের উপস্থিতিতে এলাকায় এক ধরনের থমথমে, ভীতিকর এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়।

 

শনিবারের সেই ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচির একপর্যায়ে বেলা দুইটা বেজে পাঁচ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার অন্তর্গত হিমালয় নামক একটি বড় তৈরি পোশাক কারখানার সামনে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এক সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

 

সেখানে দায়িত্ব পালনরত কারখানার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের তীব্র মাত্রায় বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সরাসরি শারীরিক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ একপর্যায়ে চরম আকার ধারণ করে নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায় এবং তারা ওই নির্দিষ্ট কারখানা ভবনে ব্যাপক আক্রমণ চালায়।

 

শুধু কারখানার ভেতরেই নয়, এর ঠিক পাশেই অবস্থিত সুপরিচিত ও ব্যস্ততম বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সেও তারা ব্যাপক মাত্রায় ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চালায়। এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক হামলায় ওই এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী, পথচারী ও কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে চরম মাত্রায় আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়।

 

শনিবারের সেই ব্যাপক সহিংসতার রেশ কেবল ওই এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনার কিছুক্ষণ পর, বিকেল তিনটে বেজে বিশ মিনিটের দিকে বিক্ষোভের এই উত্তপ্ত আগুন গিয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী পল্লবী থানার অধীনস্থ কালশী আদর্শনগর এলাকায়।

 

সেখানে অবস্থিত 'বাইশ তলা' নামক একটি অত্যন্ত বৃহৎ এবং সুপরিচিত পোশাক কারখানার সামনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে অবস্থান নেন। সেখানেও তারা চরম মাত্রায় উত্তেজনা প্রদর্শন করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে কারখানা ভবনের জানালার কাঁচ লক্ষ্য করে বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন।

 

পর পর দুই দিনের এই লাগাতার ও অঘোষিত সড়ক অবরোধ, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা দেশের সমগ্র শিল্পখাতে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

অর্থনৈতিক ও শ্রম খাত বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় এবং স্পর্শকাতর খাত। এই খাতের যেকোনো ধরনের ছোট বা বড় অস্থিতিশীলতা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছেও শ্রমিক অসন্তোষের এই চিত্র একটি অত্যন্ত ভুল ও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়, যা ভবিষ্যতের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

 

তাই এই মুহূর্তে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার দাবি যেমন গভীর সহানুভূতি, মানবিকতা ও বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা করা জরুরি, ঠিক তেমনি জাতীয় শিল্প এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুরক্ষাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

 

সরকারিভাবে গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে কারখানার মালিকপক্ষ, সাধারণ শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ও আন্তরিক উদ্যোগে একটি যৌক্তিক, সম্মানজনক এবং দ্রুত সমাধানের বাস্তবসম্মত পথ খুঁজে বের করাই এখন দেশবাসীর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

 

রাজপথের এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত এবং পেশিশক্তির আস্ফালন কোনোভাবেই কোনো সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না, বরং একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই কেবল দেশের এই প্রাণভোমরাতুল্য শিল্পখাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে টেকসই উন্নয়নের পথে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।