আজ আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মাসুদ বলেন, "একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। এটি জাতি এবং জনগণের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজন। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তাই এই পথ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।"
নির্বাচন কমিশনার মাসুদ জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আগেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং এই যাত্রাপথ থেকে পিছু হটার কোনো অবকাশ নেই। একটি মানসম্পন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কী করা হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।"
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার এটিকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমাদেরকে বাংলাদেশের এবং এর জনগণের কল্যাণের জন্য একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি করতে হবে।" তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আইন মেনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে জাতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন পায়। তিনি আশ্বাস দেন যে ইসি তার নিজস্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। তাঁর মতে, জনগণ যদি যথাযথ আচরণ করে, তবে আইনের প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না।
নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মাসুদ বলেন: "আমরা এখন এমন একটি অবস্থানে আছি যেখানে গোটা বিশ্বের একটি ধারণা জন্মেছে যে বাংলাদেশ একটি ভালো নির্বাচন করতে পারে না এবং নির্বাচন কমিশন অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত ও নির্দেশিত হয়।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "একটি চমৎকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই নির্বাচনের প্রতি জনগণের এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।"