রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইসি'র চূড়ান্ত পদক্ষেপ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪১ এএম

অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইসি'র চূড়ান্ত পদক্ষেপ
ছবি: UNB

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছে। এই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন প্রধান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মহাপরিচালক এবং কারা মহাপরিদর্শকসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুপুর ৩টায় এই প্রস্তুতিমূলক ও মতবিনিময় সভা শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ এতে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন এই সভার জন্য অন্তত ৩১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবগণ, এবং পররাষ্ট্র সচিব।

 

এছাড়াও, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার), অর্থ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবগণ আমন্ত্রিত ছিলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকেও সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

 

গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, ডাক অধিদপ্তর এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী; এবং কারা মহাপরিদর্শক। বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর নির্বাহী পরিচালক বা উপযুক্ত কর্মকর্তাকে সভায় প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক শুরু করা ধারাবাহিক সংলাপ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গত ২০ অক্টোবর বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গেও মতবিনিময় করে।

 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে নির্বাচন কমিশন অংশীজনদের সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপের একটি সিরিজ শুরু করে। এই সিরিজের প্রথম সভাটি ২৮ সেপ্টেম্বর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আরেকটি আলোচনা সভা করে ইসি। ৬ অক্টোবর, কমিশন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুটি পৃথক সংলাপের আয়োজন করে।

 

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে তারা রাজনৈতিক দলগুলোসহ অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও আলোচনায় বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল পক্ষের মতামত ও সহযোগিতা গ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।