অনুষ্ঠানে বক্তারা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের মেধা, প্রজ্ঞা এবং সুনির্দিষ্ট ভিশনের ওপর ভিত্তি করেই আগামীর বাংলাদেশ গঠিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রস্তাবিত ‘৩১ দফা’ রূপরেখা বা রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সম্প্রীতিপূর্ণ ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি গঠন করা সম্ভব হবে।
তার মতে, এই রূপরেখায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এবং এটি জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য দলিল। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহাদী আমিন। তিনি তারেক রহমানের রাজনীতির মূল দর্শন হিসেবে ‘রাষ্ট্রক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ’কে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার অধিকাংশই বিএনপি এবং তারেক রহমান বহু বছর আগেই জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন।
২০১৬ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের এক দফার আন্দোলন পর্যন্ত-বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে এসেছে। তার মতে, বিএনপির এই প্রস্তাবনাগুলো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে মাহাদী আমিন জানান, তারেক রহমান ২০১১ সালেই শিক্ষাক্রমের মধ্যে বাধ্যতামূলক তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেত এবং ফ্রিল্যান্সিং বা বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে ভাষার বাধা দূর হতো।
এছাড়া, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী। আয়োজকরা জানান, জাতীয় নীতি নির্ধারণী আলোচনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আইপিপি প্রতি মাসে এ ধরনের সংলাপের আয়োজন করবে। বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।