সোমবার রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও উপস্থিতিতে এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে গৃহীত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত তদবির সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বলয় ভেঙে ফেলা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই লটারির মাধ্যমে মূলত মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের থানাগুলোতে এই রদবদল আনা হয়েছে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন মুখের পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত দক্ষ কর্মকর্তাদেরও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, তবে তাদের কর্মস্থল নির্ধারণে লটারির ওপরই নির্ভর করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কমুক্ত ও প্রশ্নাতীত করতে পূর্বেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। লটারির আগে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের প্রধানদের কাছ থেকে সৎ, নিষ্ঠাবান এবং নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পুলিশ পরিদর্শকদের একটি তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়।
মাঠ পর্যায় থেকে আসা সেই যাচাই-বাছাইকৃত প্রাথমিক তালিকার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত লটারি সম্পন্ন হয়। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা মহলের পক্ষে পছন্দসই থানায় পদায়ন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা নির্বাচনী বছরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। লটারির ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যায় দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক রেঞ্জেই ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩টি জেলায় মোট ৯৮ জন নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলার জন্য মনোনীত হয়েছেন ১১১ জন কর্মকর্তা। এছাড়া খুলনা রেঞ্জের ১০টি জেলায় ৬৪ জন এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ৪টি জেলায় ৩৬ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রদবদল হয়েছে অন্যান্য রেঞ্জেও।
বরিশাল রেঞ্জের ৬টি জেলায় ৪৬ জন, সিলেট রেঞ্জের ৪টি জেলায় ৩৯ জন, রাজশাহী রেঞ্জের ৮টি জেলায় ৭১ জন এবং রংপুর রেঞ্জের ৮টি জেলায় ৬২ জন নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের এই বড়ধরণের রদবদল এবং তাতে লটারি পদ্ধতির প্রয়োগ দেশের মানুষের মনে নির্বাচন ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। অতীতে থানা পর্যায়ে পোস্টিং নিয়ে যে ধরনের বাণিজ্যের অভিযোগ শোনা যেত, এই পদ্ধতির ফলে তা নির্মূল করা সম্ভব হবে এবং পুলিশি সেবায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।