মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদির ওপর হামলায় তারেক রহমানের তীব্র নিন্দা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৭ পিএম

ওসমান হাদির ওপর হামলায় তারেক রহমানের তীব্র নিন্দা
ছবি: File Photo

রাজধানীর পল্টন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

 

বিএনপির সাত দিনব্যাপী ‘রাষ্ট্র্র গঠনের পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে তিনি দেশের চলমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, "সন্ত্রাসীদের গুলিতে শরীফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এই নৃশংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণেই বারবার এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

 

তার মতে, হাদির ওপর এই হামলা প্রমাণ করে যে, একটি অশুভ মহল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, "যদি হাদির মতো রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হয়, তবে আমাদের অবশ্যই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।" হামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশ দেন।

 

তিনি আহ্বান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পারে, সেজন্য সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। কোনোভাবেই যেন তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত না ঘটে বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, অন্যায়কে প্রতিহত করতে এবং হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে নাগরিকদের সর্বদা সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে।

 

জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাষ্ট্র্র গঠনের লক্ষ্যে দলের ভবিষ্যত উন্নয়ন রূপরেখা হিসেবে আটটি সুনির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন, যা গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই আটটি বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-নারীর ক্ষমতায়ন ও ফ্যামিলি কার্ড স্কিম, শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর বা 'ওয়ান ট্যাব, ওয়ান টিচার' নীতি, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আইটি কর্মক্ষেত্র তৈরি এবং ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা।

 

এছাড়া তিনি প্রবাসী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্য ও রূপরেখা উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।