কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে জানান, ব্যবসায়ী সমিতি তাদের কমিশনের হার বৃদ্ধির যে দাবি জানিয়েছিল, সেই দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে কমিশন। এলপিজি ব্যবসার টেকসই উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সমিতির অন্যান্য দাবিগুলো সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এই সমঝোতার ভিত্তিতেই ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। এর আগে, বুধবার রাতে হঠাৎ করেই সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। পূর্বঘোষণা ছাড়া এই আকস্মিক ধর্মঘটের ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়।
চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ ভোক্তা, গৃহিণী এবং পরিবহন চালকরা। দিনভর গ্যাস না পেয়ে মানুষকে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটতে দেখা যায়, যা জনজীবনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এমন সরবরাহ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল তিনটি প্রধান বিষয়।
প্রথমত, সারা দেশে গ্যাস ব্যবসায়ীদের ওপর চলমান প্রশাসনিক অভিযান ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণকারী ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নির্ধারিত চার্জ বা কমিশন বৃদ্ধি করা, যা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় ছিল। এবং তৃতীয়ত, সারা দেশে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় তাদের লভ্যাংশ সংকুচিত হয়ে আসছিল এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট অচলাবস্থার নিরসন হয়। বিইআরসির এই ত্বরিৎ পদক্ষেপ ও আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে বাকি সমস্যাগুলোরও একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে, যা দেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।