মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ- উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ- উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেছে। নিরাপত্তার শঙ্কা এবং কূটনৈতিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের কোনো মাঠে বা ভেন্যুতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও টানাপোড়েনের সমাপ্তি ঘটল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বাংলাদেশ ভারতের ভেন্যুতে খেলবে না।”

 

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরকারের আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক, তবে জাতীয় স্বার্থ ও প্রয়োজনে ‘চোখে চোখ রেখে’ কথা বলার সক্ষমতাও বাংলাদেশের রয়েছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সাধারণভাবে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখাই বাংলাদেশের নীতি।

 

ভারত বৃহত্তম প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সরকারের কাম্য। তবে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বন্ধুত্বের নামে জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যখনই কোনো দেশের আচরণে বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক বা মর্যাদাহানিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর পূর্ণ অধিকার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রয়েছে।

 

তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানে আমাদের মনে হবে যে দেশের মর্যাদা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কথা বলা প্রয়োজন, সেখানে আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করব। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির যে নিজস্ব গাম্ভীর্য ও স্বকীয়তা রয়েছে, তা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।” উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতজানু নীতি পরিহার করে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।

 

একই সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচন ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বদ্ধপরিকর। কোনো প্রার্থী বা দল যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ কোনো রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা দ্বৈত আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে। সরকারের হাতেও যদি এ ধরনের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ আসে, তবে তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।