রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধীদের দমন ও গুম-খুনের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। প্রসিকিউশন গত ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০১১ সালে গাজীপুরে চারজনকে হত্যা এবং ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনা ও সুন্দরবন এলাকায় তথাকথিত জলদস্যু দমনের নামে অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যার ঘটনা অন্যতম।
প্রসিকিউশনের বর্ণনায় উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, জিয়াউল আহসান আটককৃত ব্যক্তিদের বুকে বালিশ চেপে গুলি করে হত্যা করতেন এবং পেট কেটে ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেন, যাতে মরদেহ ভেসে না ওঠে। এমনকি লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত ট্রলারের মালিক আলকাছ মল্লিক বিষয়টি জেনে ফেলায় তাকেও একই কায়দায় হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, গত ৮ জানুয়ারি শুনানিতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা জিয়াউল আহসানের নিঃশর্ত অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, দীর্ঘ সামরিক জীবনে জিয়াউল আহসান অত্যন্ত সততা ও শৃঙ্খলার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি জাতিসংঘ পদক, বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকসহ (পিপিএম) বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন।
আইনজীবীরা দাবি করেন, ঘটনার ১৫ বছর পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, অথচ তৎকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে বা এজাহারে তার কোনো নাম ছিল না। তবে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিবাদীপক্ষের এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে ভয়ের সংস্কৃতির কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি, আর পুলিশও প্রভাবশালীদের ভয়ে সত্য ধামাচাপা দিয়েছে।
শুনানিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি উদ্ধৃত করে জানানো হয়, জিয়াউল সামরিক চেইন অব কমান্ড না মেনে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্দেশে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ১৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন। সেদিনই নির্ধারিত হবে এই আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিচারিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।