দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার রাষ্ট্রীয় বাসভবন 'যমুনা'র উদ্দেশে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ ঢাকার মৎস্য ভবন মোড়ে তা আটকে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মিছিলটি পল্টন মোড় থেকে যাত্রা শুরু করে মৎস্য ভবন মোড়ে পৌঁছালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পূর্বপ্রস্তুত ব্যারিকেড দিয়ে সেটির গতিরোধ করে। এই সময় মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের সামান্য বাদানুবাদ হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
কিছুক্ষণ আলোচনার পর, পুলিশ মিছিলটিকে আর অগ্রসর হতে না দিলেও, আয়োজকদের মধ্য থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে। এই প্রতিনিধিদলটি গণভোটের দাবিসহ মোট পাঁচ দফা সম্বলিত একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে, এই কর্মসূচি সফল করতে সকাল সাড়ে দশটা থেকেই দলগুলোর নেতা-কর্মীরা রাজধানীর পল্টন মোড় এবং এর আশপাশের এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে আসা নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ দলের ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করছিলেন।
অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর কর্মীরাও নির্ধারিত সময়ে পল্টনের এই সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ শেষে দুপুর আনুমানিক বারোটার দিকে একটি মিছিল যমুনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে, যা মৎস্য ভবনে বাধার সম্মুখীন হয়। আয়োজক দলগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের সংবিধান ও নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় গণভোট আয়োজন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি, দমন-পীড়ন এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার অবিলম্বে বন্ধ করা; আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; এবং দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিকদের বাধাহীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ।
এদিকে, এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বিশেষত পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব এবং মৎস্য ভবন এলাকায় সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এসব স্থানে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। পুলিশি বাধার মুখে মূল মিছিলটি মৎস্য ভবন মোড়েই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হলেও, অনুমোদিত প্রতিনিধিদলটি তাদের স্মারকলিপি জমা দিতে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়।