শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি এই ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনাকে দেশের বর্তমান বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ও ভয়াবহ অবনতির একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানবাধিকারের মানদণ্ডে একটি শিশুর এমন নিরাপত্তাহীনতাকে তিনি রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা হিসেবেই ইঙ্গিত করেছেন এবং দ্রুত এর স্থায়ী প্রতিকার চেয়েছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান অপ্রতীমের এমন আকস্মিক, অকাল ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত আবেগময় ভাষায় বলেন, কৈশোরের দুরন্ত ও বর্ণিল সময়ে যে অবুঝ শিশুটি কেবল বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে আনন্দের কিছু মুহূর্ত কাটানোর জন্য নিজের ঘর থেকে হাসিমুখে বের হয়েছিল, তাকে আর জীবিত অবস্থায় মায়ের কোলে ফিরে আসতে দেওয়া হলো না।
এমন পৈশাচিক, নিষ্ঠুর ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সামনে সমাজের কোনো বিবেকবান ও মানবিক মানুষই নির্বিকার বা নিশ্চুপ থাকতে পারে না। তিনি পরম করুণাময় মহান আল্লাহর কাছে নিহত কিশোর অপ্রতীমের রুহের মাগফিরাত ও শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
পাশাপাশি, শোকাহত মা-বাবা ও স্বজনদের এই পাহাড়সম ও অসহনীয় শোক সহ্য করার জন্য অসীম ধৈর্য ও শক্তি ধারণের প্রার্থনা করেন। একটি পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারানোর সীমাহীন বেদনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা বলেন, অপ্রতীম ছিল তার মা-বাবার একমাত্র আদরের সন্তান এবং তাদের জীবনের সব স্বপ্ন, বেঁচে থাকার আশা ও ভালোবাসার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হারানোর নির্মম ও মর্মান্তিক বেদনা পৃথিবীর কোনো ভাষাতেই যথাযথভাবে প্রকাশ করার মতো নয়। একজন মায়ের কোলে তার নাড়িছেঁড়া ধন আদরের সন্তানের নিথর দেহ ফিরে আসার চেয়ে চরম হৃদয়বিদারক দৃশ্য এই পৃথিবীতে আর কী হতে পারে, প্রশাসন ও সমাজের কাছে তিনি সেই কঠিন প্রশ্ন রাখেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অত্যন্ত আক্ষেপ ও উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, অপ্রতীমের এই মর্মান্তিক পরিণতি কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের একক কান্না বা ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি সমগ্র দেশ, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজের জন্য এক গভীর ও ভয়াবহ সতর্কবার্তা।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের বয়ঃসন্ধিকালের একজন শিশু যদি নিরাপদে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় নিরাপদে তার ঘরে বা মায়ের কোলে ফিরতে না পারে, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেন।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন সীমাহীন ও চরম অবনতিতে সাধারণ জনগণ আজ চরমভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত বলে তিনি তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে তিনি অপ্রতীমের অকাল মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ অতি দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে উদ্ঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর ও দ্ব্যর্থহীন দাবি জানান।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, ঠিক কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, ছিনতাইকারী বা অন্য কোনো গুপ্ত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও অত্যন্ত পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার করার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন অকারণে হয়রানির শিকার না হন এবং একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আইনি দুর্বলতার বা প্রভাবের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ বিচারের আওতায় আনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন।
পরিশেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে অপ্রতীমের মতো আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে অকালে খালি না হয়, রাষ্ট্রকে যেকোনো মূল্যে নাগরিকদের সেই শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে হবে।
একটি সভ্য সমাজে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর মূল রহস্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা এবং দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
এর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিকের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে আরও বেশি কার্যকর, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।