মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর ও সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানে তিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
দলের প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেখানে উপস্থিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় তিনি দেশবাসীকে এই সুস্পষ্ট আশ্বাস প্রদান করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা দেশের বৃহৎ শিল্পকারখানার দৈনন্দিন উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই প্রেক্ষাপটে রুহুল কবির রিজভী বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিকে কেবল বাংলাদেশের একক বা অভ্যন্তরীণ কোনো নীতিগত ব্যর্থতার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করতে সম্পূর্ণ নারাজ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের প্রতিধ্বনি করেই তিনি এই সংকটকে একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ ও অনিবার্য প্রভাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার কারণেই মূলত এর বড় একটি ঢেউ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এসে লেগেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে সাধারণ মানুষের এই আকস্মিক দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকার যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, সেটিও তিনি গণমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "দেশে চলমান বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক সংকট। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই।" সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নানামুখী জরুরি উদ্যোগ এবং নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই আগামী সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, অগণিত চড়াই-উতরাই এবং সাধারণ মানুষের হারানো অধিকার আদায়ের নিরন্তর আন্দোলন পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ তাদের পথচলার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে।
এই দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল পথচলায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রদর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক ত্যাগকে গভীরভাবে স্মরণ করেন দলের এই বর্ষীয়ান শীর্ষ নেতা। রুহুল কবির রিজভী তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার ও দলের মধ্যকার সুসম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একে অপরের পরিপূরক ও একনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতোই যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা বা দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
এই সকল চ্যালেঞ্জ সফলভাবে জয় করেই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক, কাঠামোগতিক ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম অত্যন্ত সাবলীল ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকা এক উৎসবমুখর অথচ ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হয়।
দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক রূপরেখা নিয়ে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশবাসীর প্রতি যেকোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণের উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের চলমান এই জ্বালানি সংকটসহ সকল ধরনের জাতীয় সমস্যার একটি স্থায়ী, টেকসই ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলে একযোগে কাজ করছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ যেন একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হয়, ঠিক সেই লক্ষ্যেই সরকার ও দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি সমগ্র জাতিকে আশ্বস্ত করেন।