শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ‘ভারপ্রাপ্ত’ নেতৃত্বের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের শীর্ষ পদটি শূন্য হয়েছিল। এমতাবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শ মোতাবেক সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, দলের এই ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমানের নেতৃত্বই দলকে সুসংগঠিত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। বৈঠকের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত গম্ভীর ও আবেগঘন, যেখানে নেতারা প্রয়াত নেত্রীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তারেক রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ মূলত একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, কারণ বিগত কয়েক বছর ধরে কার্যত তিনিই দলের হাল ধরে রেখেছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে দলটি গত কয়েক বছরের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করেছে।
বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে তাঁর কৌশলগত ভূমিকা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটে গত বছরের (২০২৫) ৩০ ডিসেম্বর। এর আগে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়ে তৎকালীন সরকারের নির্বাহী আদেশে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পূর্ণাঙ্গ মুক্তি লাভ করেন, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি আর রাজনীতির মাঠে ফিরতে পারেননি। তাঁর এই চিরবিদায়ের পর দলের নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে।
দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই নেতৃত্ব বদলকে বিএনপির নতুন কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাবার প্রতিষ্ঠিত এবং মায়ের দীর্ঘ লালিত এই দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তারেক রহমান দলকে কোন পথে এগিয়ে নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।