সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে না বলে জানালেন ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে না বলে জানালেন ট্রাম্প
ছবি : File Photo

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সাথে কোনো ধরনের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দেশটির জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে না।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-এর 'মিট দ্য প্রেস' নামক একটি বিশেষ ও একচেটিয়া অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ও দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় চলমান পরোক্ষ আলোচনাকে এক নতুন ও জটিল মাত্রায় নিয়ে গেছে।

 

টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক আচরণ প্রদর্শন করে এবং সংকট নিরসনে সঠিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে সচেষ্ট হয়, তবেই কেবল মার্কিন প্রশাসন তাদের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

 

তবে একই সাথে তিনি সতর্ক করে দিয়ে পরিষ্কার করে বলেন যে, সেই সম্ভাব্য আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অর্জিত হলেও ইরান তাদের অবরুদ্ধ অর্থ এখনই ফেরত পাচ্ছে না।

 

ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় নীতি মূলত তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার একটি কৌশলগত প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক খাত ও ইরানি গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোতে ইরানের প্রায় একশ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

 

দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো ধরনের ফলপ্রসূ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান ও বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত হিসেবে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ শর্তহীনভাবে অবমুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে।

 

ইরানের নীতিনির্ধারকদের মতে, এই অর্থ তাদের নিজস্ব সার্বভৌম সম্পদ এবং তা ফেরত পাওয়া তাদের আইনগত অধিকার। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ এই নেতিবাচক ও কঠোর বক্তব্য শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি বড় ধরনের ধাক্কা দিল।

 

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান পরোক্ষ যোগাযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রক্রিয়াটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

 

- আল জাজিরা