রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৭ শ্রমিকের প্রাণহানি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

কলম্বিয়ায় কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৭ শ্রমিকের প্রাণহানি
ছবি : Collected

ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একটি অবৈধ কয়লা খনিতে মিথেন গ্যাস জমে সৃষ্ট এক ভয়াবহ ও আকস্মিক বিস্ফোরণে সাতজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত অনিরাপদ পরিবেশে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই নিরীহ শ্রমিকদের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকাটিতে বর্তমানে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের দুর্ঘটনা ওই অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রদান করা তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় খনিসমৃদ্ধ শহর সুতাতাউসার একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ওই অবৈধ ও অপরিকল্পিত খনিটিতে এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

 

কলম্বিয়ার জাতীয় খনি সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খনির অত্যন্ত গভীরে বাতাস চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণঘাতী মিথেন গ্যাস বিপজ্জনক মাত্রায় জমে গিয়েছিল, যার ফলে একটি স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি সংঘটিত হয়।

 

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রথম নিহত শ্রমিকের মৃতদেহটি খনির অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা।

 

পরবর্তীতে শুক্রবার দিনব্যাপী চলা শ্বাসরুদ্ধকর ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানে আরও পাঁচজন হতভাগ্য খনি শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে আরেকজনের লাশ উদ্ধার হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা সাতে পৌঁছায়।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আঞ্চলিক গভর্নর হোর্হে এমিলিও রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আবেগঘন ও আনুষ্ঠানিক বার্তায় দুর্ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নিশ্চিত করেন যে, এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে আশ্বস্ত করেন যে, দুর্ঘটনার প্রকৃত ও অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটনে এবং এর পেছনে কারও গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে জাতীয় খনি সংস্থা ইতিমধ্যে একটি বিশদ, নিরপেক্ষ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

অনাকাঙ্ক্ষিত এই প্রাণহানির ঘটনায় পুরো সুতাতাউসা শহর আজ গভীর শোক পালন করছে। আন্তর্জাতিক খনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কলম্বিয়ার এই নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা এখন এক নিত্যনৈমিত্তিক ও ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

মধ্য কলম্বিয়ার বৈধ ও অবৈধ উভয় প্রকার কয়লা খনিতেই প্রায়ই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, খনিগুলোতে শ্রমিকদের জীবন রক্ষার জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তা বিধি ও আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ না করা এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে অপরিকল্পিত খননকাজ চালানোই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

 

উল্লেখ্য, গত মে মাসেও ওই একই অঞ্চলে দুটি পৃথক ও ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যার একটি সংঘটিত হয়েছিল এই অভিশপ্ত সুতাতাউসা শহরেই। ওই দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সর্বমোট ১৩ জন নিরীহ খনি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।

 

একের পর এক এমন মর্মান্তিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক দুর্ঘটনা কলম্বিয়ার খনি শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি তদারকি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

- আমার দেশ