আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং বৈধভাবে অন্যান্য অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার পথ পুনরায় উন্মুক্ত হলো।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক জন ম্যাককনেল দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) ওই বিতর্কিত নীতিগুলো বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ দেন।
আদেশে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নীতিগুলোর কারণে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক ডজন দেশের অসংখ্য মানুষ চরম আইনি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন।
বিচারকের মতে, অভিবাসীরা মার্কিন কংগ্রেসের প্রণীত আইন এবং ইউএসসিআইএস-এর সমস্ত বিধিমালা মেনেই নিজেদের আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও, কেবল নির্দিষ্ট দেশে জন্ম নেওয়ার অজুহাতে সংস্থাটি তাঁদের আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মাসের পর মাস তাঁদের অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য করে।
আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়কে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত মার্চ মাসে তাঁরা এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন।
মূলত গত বছরের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর এক আফগান অভিবাসীর হামলার অভিযোগ ওঠার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপগুলো জোরালোভাবে গ্রহণ করে।
ওই ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ব্যবস্থা পুরোপুরি সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হবে।
পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন আংশিক বা সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯-এ উন্নীত করে, যার মধ্যে আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়ার মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রশাসনের দাবি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছে। তবে বিচারক ম্যাককনেল তাঁর রায়ে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেছেন যে, আবেদন নিষ্পত্তির এই আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার পেছনে আবেদনকারীদের বিন্দুমাত্র ভুল ছিল না।
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমায় জন্ম নেওয়ার কারণেই অগণিত মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, আইনের শাসন প্রতিটি মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
ইউএসসিআইএস এই ক্ষেত্রে শুধু যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, বরং তারা সুস্পষ্টভাবে দেশের অভিবাসন ও প্রশাসনিক আইনকে চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে।