মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তেহরানের ড্রোনগুলো বর্তমানে কোথায় মজুত রাখা হয়েছে এবং তাদের মূল উৎপাদন কারখানাগুলো ঠিক কোন কোন অঞ্চলে অবস্থিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন পুরোপুরি অবগত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুধু ড্রোন কারখানাই নয়, বরং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও যৌথ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশটির সামরিক বাহিনীতে ঠিক কী পরিমাণ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে-এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া থেকে তিনি বিরত থাকেন। তবে একটি আনুমানিক কৌশলগত হিসাব প্রদান করে তিনি জানান যে, সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের হয়তো মাত্র একুশ থেকে বাইশ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এখনো টিকে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন যে, ধ্বংসযজ্ঞের পর অবশিষ্ট থাকা এই অস্ত্রের পরিমাণও কম নয়, তবে গত আঠাশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার আগের পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমান শক্তি একেবারেই নগণ্য এবং দুর্বল।
চলমান এই তীব্র সামরিক সংঘাতের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ও স্থায়ী শান্তি চুক্তি কেন স্বাক্ষরিত হয়নি, সেই বিষয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
তাঁর মতে, ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের অতিরিক্ত গর্বিত মনোভাবের কারণেই এই কূটনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, ইরানি নীতিনির্ধারকেরা হয়তো এখনো বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না যে তারা বর্তমানে কতটা গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে তাদের নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে।
তাঁরা অত্যন্ত অহংকারী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন এমন কিছু কঠিন আপস করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তারা অতীতে কখনো কল্পনাও করেননি। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক চাপ ও বাস্তবতায় শর্তসাপেক্ষে সমঝোতায় আসা ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প পথ খোলা নেই।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভবন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পর্দার আড়ালের চলমান কূটনৈতিক আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবেই সামনের দিকে এগোচ্ছে।
সম্ভাব্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও আশাবাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, শান্তি চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ নাও দেখতে পারে, তবে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহান্তেই দুই পক্ষের মধ্যে একটি বড় ধরনের ঐতিহাসিক সমঝোতা অর্জিত হওয়া সম্ভব।