‘এআই ফর অল’ বা ‘সবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক এই সুদূরপ্রসারী কৌশলটি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি টরন্টোতে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার ফলে আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অন্তত ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কানাডার প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির পথে একটি ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ঘোষিত এই নতুন কৌশলের অন্যতম প্রধান দিক হলো দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানিগুলোকে আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) কানাডিয়ান ডলারের একটি বিশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন তহবিল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বহুমুখী বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও শিল্পের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে এর ব্যাপক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল হিসেবে কানাডার অর্থনীতিতে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার যুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রায় নিয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কানাডার ব্যবসা খাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা এই পরিকল্পনার আরেকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডার মাত্র ১২ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার রয়েছে, যা উন্নত বিশ্বের অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে অগ্রসর দেশের তুলনায় কিছুটা কম।
তাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের এই হারকে ধাপে ধাপে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা। এই বিপুল প্রযুক্তিগত রূপান্তরের জন্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এআইভিত্তিক আধুনিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের পরিধি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের বিশদ পরিকল্পনাও এই কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির যে চরম উৎকর্ষ ও তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, সেখানে কানাডাকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ও উৎপাদনশীল অর্থনীতি উপহার দিতেই সরকার এই উচ্চাভিলাষী জাতীয় কৌশল গ্রহণ করেছে।