তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপ যেন কোনোভাবেই সরকারপ্রধানকে দেশের সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে। কারণ, একজন সরকারপ্রধানের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা ও শক্তির জায়গা হলো সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং অগাধ বিশ্বাস।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসএসএফ যখন প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখনকার সময়ের তুলনায় বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় বাস্তবতায় ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আধুনিক যুগে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভূরাজনৈতিক চরম জটিলতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ও দ্রুত বিকাশের কারণে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।
এই ক্রমবর্ধমান ও জটিল চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, একটি বিশেষায়িত ও অভিজাত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, সুনির্দিষ্ট কৌশল এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক থেকে এসএসএফের সামান্যতম পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
তরুণ বয়স থেকেই রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ফোর্সের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের নিবিড় পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারপ্রধান হিসেবে বর্তমানে তিনি প্রতিদিন ও প্রতি মুহূর্তে এসএসএফের নিবেদিত কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন, তবে এই বাহিনীর সঙ্গে তার পরিচয় একেবারেই নতুন নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকারপ্রধানের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন, ঠিক তখন থেকেই তিনি এসএসএফের নিখুঁত কর্মপদ্ধতি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচিত।
এ সময় তিনি অত্যন্ত আবেগ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রে এসএসএফ প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই অসামান্য দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ব্যক্তিগত এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাহিনীটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেন।
তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, একটি অত্যাধুনিক, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে এসএসএফকে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যেন কঠোর নিরাপত্তার অজুহাতে জননেতারা কখনোই সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে না যান।
জনগণের সঙ্গে নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক বজায় রেখেই সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার মাঝে একটি নিখুঁত ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অবলম্বনের জন্য তিনি এসএসএফ সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।