বুধবার, ২৪ জুন, চীনের স্থানীয় সময় ঠিক দুপুর দুইটায় তিনি দালিয়ানের রেলওয়ে স্টেশন থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি একটি উচ্চগতির ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে তাঁর এই প্রতীক্ষিত যাত্রা শুরু করেন।
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রীয় সফরে তাঁর সঙ্গে একান্ত সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই যাত্রা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ়ভাবে আশা করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বুধবার সকালে দালিয়ান শহরে চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
চীনের স্থানীয় সময় ঠিক সকাল নয়টায় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সুবিশাল ও দৃষ্টিনন্দন মিলনায়তনে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ শীর্ষক এই বিশেষ অধিবেশনটি অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়।
বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনী রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিশ্বের নানা প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মানিত সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর সুচিন্তিত ও দিকনির্দেশনামূলক উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের শীর্ষ নেতারা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
এই বিশ্বনেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক দেশ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ।
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত এই সরকারপ্রধানদের সরব উপস্থিতিতে এই অধিবেশনটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। এই অধিবেশনে আগামীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে অত্যন্ত বিশদ ও গঠনমূলক আলোচনা করা হয়।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই মূল অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন।
এই অত্যন্ত ফলপ্রসূ পার্শ্ববৈঠকগুলোতে তিনি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো প্রসারের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
আনুষ্ঠানিক ও গঠনমূলক এসব আলোচনার বিরতিতে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তিনি একটি অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর স্থিরচিত্র ধারণ পর্বেও অংশগ্রহণ করেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সম্মান ও বন্ধুত্বের এক চমৎকার এবং উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, অত্যন্ত ব্যস্ত, বহুমাত্রিক ও তাৎপর্যপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রাথমিক অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার, ২২ জুন চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র দালিয়ানে এসে পৌঁছান।
তাঁর এই অত্যন্ত সময়োপযোগী সফরটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নিবিড় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, অপার সম্ভাবনা এবং স্থিতিশীলতাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে।
দালিয়ানের অত্যন্ত সফল ও প্রশংসিত পর্ব শেষে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে এই উচ্চগতির ট্রেনের যাত্রা তাঁর সফরের পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক ধাপ। বেইজিং পৌঁছানোর পর সেখানে আরও বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।