মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের টেকসই উদ্যোগ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

বাংলাদেশের টেকসই উদ্যোগ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস
ছবি : Collected

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নানামুখী ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশগত সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগির এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থানীয় সময় বিকেলে আয়োজিত এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দুই নেতা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং দেশের টেকসই অগ্রগতিতে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দীর্ঘদিনের বৈচিত্র্যময় ও সময়োপযোগী উদ্যোগগুলোর গভীর প্রশংসা করেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য বদ্বীপ রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে থাকা উপকূলীয় দেশগুলোর সুরক্ষায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

 

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে তিনি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

 

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

এই ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি দেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও খরা মোকাবিলায় দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের একটি সুবৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

এই সমন্বিত খননকাজের মাধ্যমে নদীগুলোর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি হ্রাস করা এবং সামগ্রিক জলজ পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের শীর্ষ কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেন।

 

জ্বালানি খাতে আমূল পরিবর্তন এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, বর্তমান প্রশাসন দেশে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করছে।

 

এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ কর-সুবিধা এবং বিনিয়োগ প্রণোদনা প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে উৎপাদনের একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী কিন্তু বাস্তবসম্মত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

 

পরিবেশবান্ধব এই রূপান্তর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

বাংলাদেশের এই যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব কর্মপরিকল্পনার প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী উদ্যোগগুলোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।

 

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের ন্যায়সংগত বণ্টন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

 

কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আগামী বার্ষিক সম্মেলনে সশরীরে অংশগ্রহণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ও মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ জানান।

 

এই শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জলবায়ু কূটনীতিতে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড অনুযায়ী, এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিবেশগত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।