বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে চলমান রাষ্ট্রীয় সফরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের স্বনামধন্য বন্দরনগরী দালিয়ান থেকে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বুধবার, ২৪ জুন, চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিংয়ের নির্ধারিত রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপদে অবতরণ করেন। এর আগে একই দিন দুপুর দুইটায় দালিয়ান থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত উচ্চগতির বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে তাঁর এই প্রতীক্ষিত যাত্রা শুরু করেছিলেন।

 

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। কূটনৈতিক মহলের মতে, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে বেইজিংয়ের এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

 

রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পূর্বে বুধবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। চীনের স্থানীয় সময় ঠিক সকাল দশটায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মর্যাদাপূর্ণ 'গ্রীষ্মকালীন দাভোস' বা সামার দাভোস-এর বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের বলিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং আগামী প্রজন্মের উদ্ভাবনী রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদের কাছে অত্যন্ত গভীর গুরুত্ব বহন করে।

 

'অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস' শীর্ষক ১৭তম এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের জন্য এক অনন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই সুবিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।

 

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ।

 

বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশ থেকে আগত এই শীর্ষ নেতাদের সরব উপস্থিতি এই সম্মেলনটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত করেছে।

 

আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, এবারের এই গ্রীষ্মকালীন দাভোস সম্মেলনে বিশ্বের নব্বইটিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের এক হাজার সাতশ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেছেন, যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই আয়োজনের বিশালতা ও অপরিহার্যতাকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে।

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মতো এত বিশাল, তাৎপর্যপূর্ণ এবং প্রভাবশালী একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সরব ও ফলপ্রসূ অংশগ্রহণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এবং বহির্বিশ্বে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

 

এই বৈশ্বিক জ্ঞান আদান-প্রদান ও সংযোগ স্থাপনের সম্মেলনের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের সামনে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পায়ন এবং দেশের বিশাল জনশক্তির জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের এক অভাবনীয় দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

 

পাশাপাশি, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আধুনিক প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়নের মডেল, সেরা অনুশীলন এবং সফল অর্থনৈতিক কৌশলগুলো সরাসরি জানার ও বিশ্লেষণের এক চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এই অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও সমৃদ্ধ, টেকসই এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে দৃঢ়ভাবে আশা করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমান বহুমাত্রিক রাষ্ট্রীয় সফরের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার, ২২ জুন মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র দালিয়ানে এসে পৌঁছান।

 

মালয়েশিয়ায় তাঁর সফল ও বন্ধুপ্রতিম সফরের পরপরই চীনের এই তিন দিনের দালিয়ান সফর বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক অংশ।

 

দালিয়ানের অত্যন্ত সফল ও প্রশংসিত পর্ব শেষে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে এই আধুনিক উচ্চগতির ট্রেনের যাত্রা তাঁর সফরের পরবর্তী ও সবচেয়ে নির্ধারক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বেইজিংয়ে অবস্থানকালে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এই আলোচনাগুলো মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নিবিড় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল গভীরভাবে বিশ্বাস করে।