বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনেক সভায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩টি মেগা প্রকল্প অনুমোদন

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

একনেক সভায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩টি মেগা প্রকল্প অনুমোদন
ছবি : Collected

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামো বিনির্মাণের লক্ষ্যে আরও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক-এর সর্বশেষ সভায় সারা দেশের উন্নয়নের চিত্র বদলে দেওয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

 

অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলোর সর্বমোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। জাতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এত বিপুল পরিমাণ অর্থায়নের প্রকল্প অনুমোদন সরকারের দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

 

প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের উৎস বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার তার অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জোর দিয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

 

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংগৃহীত হবে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

 

অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়নের এই চমৎকার ভারসাম্য দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও বেশি স্থিতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একনেক সভায় অনুমোদিত এই ১৩টি মূল প্রকল্পের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প রয়েছে ৮টি, চলমান কাজের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে ৩টি এবং কেবল মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা হয়েছে এমন প্রকল্প রয়েছে ২টি।

 

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ডক্টর আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ভূমি মন্ত্রী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিনু এবং শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

এছাড়াও বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

 

তাঁদের সম্মিলিত আলোচনা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতেই প্রকল্পগুলোর যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়িত হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর খাতভিত্তিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো সারা দেশে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে ‘বাংলাদেশে যক্ষ্মা, এইচআইভি বা এইডস এবং ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক প্রকল্প।

 

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবার আওতায় আসবে। স্বাস্থ্য খাতের অপর প্রকল্পটি হলো ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (প্রথম সংশোধিত)’, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আর্থিক খাতের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২’ বা এফএসএসপি-২ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রকল্পের মাধ্যমে। ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিরা সমাজে নিজেদের স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রথমটি হলো ‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’।

 

অপরটি দেশের অন্যতম উপকূলীয় ও দ্বীপজেলা ভোলার জন্য আক্ষরিক অর্থেই জীবনরক্ষাকারী একটি পদক্ষেপ, যার শিরোনাম ‘মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প’।

 

প্রতি বছর নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া হাজারো মানুষের ভিটেমাটি ও আবাদি জমি রক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

 

প্রান্তিক পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পাস হয়েছে। এগুলো হলো ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্প’।

 

যোগাযোগ খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়, তৃতীয় সংশোধন)’ প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে, যা দেশের এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।

 

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে।

 

পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যার একটি হলো ‘ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ’ এবং অপরটি ‘তিনটি পার্বত্য জেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’।

 

এই মেগা প্রকল্পগুলোর বাইরেও, পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত আরও ১৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি একনেক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি ও যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ রয়েছে।

 

উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসের নির্ঝর এলাকায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিদ্যমান তিনতলা ভবনের ওপর চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৬ তলার ভিত) প্রকল্প; কুর্মিটোলায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি সংলগ্ন বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

এছাড়া ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; দেশের ১০টি জেলায় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই-এর আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম সংশোধনী; মিরপুরে ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত) বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে।

 

একই সাথে কুড়িগ্রাম জেলার সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ (দ্বিতীয় সংশোধন); হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্প; ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বা আইডিবি-এর সহায়তায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধনের মাধ্যমে পাইপলাইনে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্পের মতো জনবান্ধব উদ্যোগগুলোও বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে।

 

সার্বিক বিবেচনায়, একনেক সভায় অনুমোদিত এই ২৮টি প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য খাত এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।