পরিবারের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে, যা নিয়ে তাদের মনে গভীর সন্দেহের দানা বেঁধেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই এবং তারা নিজেদের মনোনীত নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে চায়।
পারিবারিক আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকাকালে আনিসেটের মৃত্যু হয়েছে, সেই একই কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ চিকিৎসকদের দিয়ে ময়নাতদন্ত করা হলে তা নিরপেক্ষ হবে না। সোমবার আনিসেট একানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গোটা জাতি স্তম্ভিত। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, গত ২৪ অক্টোবর গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁরা নেতার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এবং ক্রমাবনতিশীল স্বাস্থ্যের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
একানের রাজনৈতিক দল ‘মানিদেম’ (Manidem) এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত ‘রাষ্ট্রীয় অপরাধ’ বা ‘ক্রাইম অফ স্টেট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দলের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, শ্বাসকষ্টে ভোগা এই নেতাকে তাঁর জীবনরক্ষাকারী অক্সিজেন এক্সট্র্যাক্টর ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি সংকটপূর্ণ মুহূর্তে তাঁকে কোনো পালমোনোলজিস্ট বা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।
যদিও সরকারি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছিল। এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাসিত সাবেক মন্ত্রী ও বিরোধী প্রার্থী ইসা চিরোমা বাকারি প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করছে এবং একানেকে আটকের কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি ছিল না।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কিত নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ৮৮ বছর বয়সী পল বিয়া অষ্টমবারের মতো ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তা বাহিনী শত শত মানুষকে আটক করে, যাদের অনেকেই এখনো বিনা বিচারে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। আনিসেট একানের মৃত্যু সেই চলমান দমনপীড়নেরই এক করুণ পরিণতি বলে মনে করছেন দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা। বিরোধী শিবিরের এই নেতার মৃত্যু ক্যামেরুনের ভঙ্গুর গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।