দেশটির অন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের আঞ্চলিক পুলিশ দীর্ঘ চার মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার বিমান সংস্থা 'এয়ার কানাডা'র সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রি ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণাসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাকে আইনের আওতায় নেয়।
৫৯ বছর বয়সী এই পাইলটের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জিওফ্রি ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী দীর্ঘ সময়ে সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ৯০০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি নিজের প্রকৃত যোগ্যতা, নথিপত্র এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য গোপন রেখে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও কানাডার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও অন্ধকারের মধ্যে রেখেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওয়ালের কাছে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমানের মূল ক্যাপ্টেন বা প্রধান চালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যে বিশেষ 'এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স' (এটিপিএল) থাকা বাধ্যতামূলক, তা তার ছিল না।
পিল অঞ্চলের পুলিশ প্রধান নিশান দুরাইয়াপ্পাহ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নজিরবিহীন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই জালিয়াতি আকাশপথের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও বিশ্বস্ততাকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে লক্ষাধিক সাধারণ যাত্রীর জীবন ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নির্দেশিকা অনুযায়ী এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং এই গাফিলতি কীভাবে এতদিন অনাবিষ্কৃত রয়ে গেল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্য দিকে, এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা উদ্ভূত এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে বিমানের সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত বা ঝুঁকির মুখে পড়েনি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিমান সংস্থায় কর্মরত সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস পর পর বাধ্যতামূলক কঠোর প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার দক্ষতা মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর পাশাপাশি প্রতি বছর একজন উচ্চপদস্থ ও প্রত্যয়িত পাইলট পরীক্ষকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাদের উড্ডয়ন পরীক্ষা দিতে হয়।
এয়ারলাইন্সটি আরও নিশ্চিত করেছে যে অভিযুক্ত পাইলট জিওফ্রি ওয়াল তার কর্মজীবনে প্রশিক্ষণের সব শর্ত সফলভাবে পূরণ করেছিলেন এবং বড় আকারের দূরপাল্লার বিমান নিরাপদে পরিচালনার ক্ষেত্রে তার যথাযথ দক্ষতার প্রমাণ মিলেছিল। বর্তমানে এই ঘটনার সুষ্ঠু আইনি বিচার নিশ্চিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ একযোগে কাজ করছে।