মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি বিশ্বজুড়ে প্রচার করে।
তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হলেও তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সর্বশেষ দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ৪৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এই অভিযানের পরই মূলত ইরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে যুদ্ধবিরতির এই অনুরোধ আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তেহরানকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া কঠোর শর্তসমূহ যদি ইরান অনতিবিলম্বে মেনে না নেয়, তবে আগামী রাতেও তাদের সামরিক অবকাঠামোর ওপর আরও ব্যাপক ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানের কোনো কর্মকর্তা বা শীর্ষ নেতা হামলা বন্ধের আকুতি জানিয়ে ট্রাম্প কিংবা মার্কিন প্রশাসনের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।
ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধের দায় এড়ানো এবং নিজেদের অন্যায় আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি দুর্বল অজুহাত হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধরনের কাল্পনিক দাবি করছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে এই ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক সদর দপ্তরের দাবি, বুধবার গভীর রাতে চালানো এই অভিযানটি মূলত ইরানের অযৌক্তিক, উসকানিমূলক ও অব্যাহত আঞ্চলিক আগ্রাসনের একটি সুনির্দিষ্ট এবং প্রতিরক্ষামূলক জবাব। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরানও।
তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসমূহ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে সফল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।