বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশ্বনেতাদের সামনে এই কড়া মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে গাজার বর্তমান মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি ইসরায়েলের কঠোর নিন্দা জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে, কারণ রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এমন সরাসরি ও কঠোর সমালোচনা খুব কমই দেখা যায়।
জাতিসংঘের ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেত্রো গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহতা বিশদভাবে বর্ণনা করেন। আবেগপূর্ণ ও জোরালো বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিক্ষিপ্ত অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গাজা উপত্যকায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
তারা কোনো বাছবিচার ছাড়াই সাধারণ মানুষ এবং এমনকি নিষ্পাপ শিশুদের ওপরও প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে চলেছে। বিশ্ববিবেকের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যান কোনোভাবেই বিশ্বের দৃষ্টির আড়ালে রাখা সম্ভব নয়।
কোনো রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর বৃহত্তর রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থ এই চরম অমানবিক বাস্তবতাকে কখনোই ঢেকে রাখতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলেন, তার এই বক্তব্যের মূল সতর্কবার্তা হলো, বিশ্ব সভ্যতা যেন আবারও সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন নাৎসি যুগে ফিরে যাচ্ছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের এমন নজিরবিহীন ও কঠোর মন্তব্যের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে সরাসরি আক্রমণ করে লেখেন, এই ইহুদি-বিদ্বেষী রাষ্ট্রপ্রধান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হলোকাস্টের স্মৃতিকে তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করছেন।
এটি সম্পূর্ণভাবে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে দাবি করে ইসরায়েলি প্রশাসন এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদলের সময় ঘনিয়ে আসছে।
আগামী ২১ জুন দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই আসন্ন নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।
মেয়াদ শেষের আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদায়বেলায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার এই জোরালো কণ্ঠস্বর মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হলেও ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সঙ্গে কলম্বিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।