শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্কে চরম উত্তেজনা

‘ছবি তোলার জন্য অনুনয় করেছিলেন মেলোনি’

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

‘ছবি তোলার জন্য অনুনয় করেছিলেন মেলোনি’
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও রোমের মধ্যে নতুন করে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্পর্কে ট্রাম্পের অবমাননাকর দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করেছেন।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তাজানি এই সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

সম্প্রতি ইতালির সম্প্রচারমাধ্যম ‘লা সেভেন টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো অনুনয় করেছিলেন।

 

ট্রাম্প বলেন, মেলোনির প্রবল আগ্রহ দেখে তিনি নিতান্তই করুণাবশত ছবিটি তুলেছিলেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এই অবমাননাকর মন্তব্যের কড়া জবাব দেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ভিত্তিহীন বক্তব্যে তিনি হতবাক। দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণ তাঁর একেবারেই বোধগম্য নয়। মেলোনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের বা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যতটা নমনীয় আচরণ করেন, মিত্রদের বিরুদ্ধে তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি কঠোরতা দেখান, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি বা তাঁর দেশ ইতালি কখনোই কারও কাছে অনুনয় করে না।

 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক বিবাদের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে। আগামী সপ্তাহে মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় ‘ইতালি-ইউএস বিজনেস, ইনভেস্টমেন্ট, সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ফোরাম’-এ যোগ দেওয়ার কথা ছিল ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

 

সেখানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের মতো কৌশলগত ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ফোরাম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এদিকে, শুক্রবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও মেলোনির কঠোর সমালোচনা করেন। ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ন্যাটো জোটের পক্ষে ইতালির সমর্থনের অভাব নিয়ে তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

একসময় ট্রাম্পের অন্যতম কট্টর ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন ডানপন্থী নেতা মেলোনি। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইতালির অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের শুরুতে পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতার জেরে দুই নেতার সম্পর্কে ক্রমশ ফাটল ধরেছে। মিত্রদের মধ্যে সৃষ্ট এই নতুন উত্তেজনা পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

- সিএনএন