একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে অপরাজেয় বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সাফল্য ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইরানের সাথে এই দীর্ঘ সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রয়োগ ও তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনি নতুন কোনো শিক্ষা বা ধারণা পেয়েছেন কি না।
জবাবে ট্রাম্প জানান, ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন কোনো ধারণা তিনি পাননি, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি অনুভব করছেন যে তাঁর ক্ষমতার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।
প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তাঁর জানা থাকলেও, এই বিশেষ সংকটে মার্কিন বাহিনী প্রতিপক্ষকে সামরিকভাবে সম্পূর্ণ পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর নির্দেশের পর ইরানের কোনো জাহাজ বন্দর থেকে বের হতে পারেনি এবং অবরোধ ভাঙার প্রতিটি চেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের শুরু থেকেই তেহরানের কাছ থেকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং এটিকে কার্যত একটি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ হিসেবেই গণ্য করেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন প্রশাসনের প্রভাব আরও সুসংহত হলো বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ঐতিহাসিক এই সমঝোতার পটভূমি বেশ দীর্ঘ ও জটিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা টানা ৪০ দিন স্থায়ী হয়েছিল।
এরপর গত ৮ এপ্রিল থেকে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছিল। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর, গত ১৭ জুন প্যারিসে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। এর পরপরই তেহরানে নিজ কার্যালয় থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
অবশ্য এই চুক্তি নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভিন্ন সুর লক্ষ্য করা গেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জানান, নীতিগতভাবে তিনি ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে ছিলেন না।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র চাপ ও মরিয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণেই শেষ পর্যন্ত ইরান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের একটি বড় জয় হিসেবে দেখছে, যা আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।