মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ভয়াবহ সহিংসতা ও গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৬৩

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ভয়াবহ সহিংসতা ও গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৬৩
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিউইয়র্ক নিকস যখন এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপের পরম কাঙ্ক্ষিত শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলল, তখন পুরো শহর মেতে উঠেছিল বাঁধভাঙা উল্লাসে।

 

কিন্তু ক্রীড়ামোদীদের এই ঐতিহাসিক আনন্দের মুহূর্তটি খুব দ্রুতই পরিণত হয় চরম বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও ভয়াবহ সহিংসতায়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত, জনবহুল ও বিশ্বজুড়ে পরিচিত এলাকা নিউইয়র্ক শহরের টাইমস স্কয়ারে আনন্দ উদযাপনের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।

 

এতে উৎসবমুখর পুরো এলাকায় মুহূর্তের মধ্যেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণভয়ে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারের ৪২তম স্ট্রিট এবং ব্রডওয়ে সংলগ্ন এলাকায় পরপর অন্তত সাতটি গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই আকস্মিক গোলাগুলির ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

 

ঘটনার সময় রাস্তায় মানুষের প্রচণ্ড ভিড় এবং চরম বিশৃঙ্খলা থাকায় জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স কোনোভাবেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছিল না। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিজস্ব টহল গাড়িতে করে ওই আহত কিশোরকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

 

গোলাগুলির পাশাপাশি এই সংঘাতের মধ্যে আরও অন্তত চারজন ব্যক্তি নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করছেন এবং তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি গুলিভর্তি প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছেন।

 

প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই উদযাপনে অংশ নেওয়া জনতার মধ্যে মিশে থাকা একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি একপর্যায়ে চরম ধ্বংসাত্মক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

 

তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কর্তব্যরত পুলিশের গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে জানালার কাচ ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, উন্মত্ত হামলাকারীরা অন্তত পাঁচটি স্কুলবাস এবং পাঁচটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের দর্শকদের নির্বিঘ্নে পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা কয়েকটি বাসও এই বর্বরোচিত ও অযৌক্তিক হামলার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

নিউইয়র্ক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, টাইমস স্কয়ারের এই নজিরবিহীন সহিংসতা, ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন। ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এমন একটি ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের আনন্দে পুরো নিউইয়র্ক শহর যখন এক অবিস্মরণীয় উৎসবের নগরীতে পরিণত হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তখন এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

 

উদ্ভূত এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিক বিজয় শোভাযাত্রাকে ঘিরে যেন নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে পুরো শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ।

 

এনডিটিভি