মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং চমৎকার আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত সপ্তাহে তিনি কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাতে চাননি, কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাদের হাতে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
এই ঐতিহাসিক চুক্তির আগেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের চালানো ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড তার একেবারেই পছন্দ নয়।
লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে অত্যধিক সংখ্যক সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খোঁজার অজুহাতে পুরো একটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ওইসব ভবনে অসংখ্য নিরীহ মানুষ বসবাস করেন।
এই সংঘাত নিরসনে একটি বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে তিনি সিরিয়ার হাতে হিজবুল্লাহকে মোকাবিলার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ তার মতে সিরিয়া এই কাজটি আরও দক্ষতার সঙ্গে করতে সক্ষম।
ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এই চুক্তি টিকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, লেবানন ইস্যুটি একটি ছোটখাটো যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহ কেবল একটি ছোট কাঁটার মতো বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে; অন্যদিকে ইরান হলো একটি বৃহৎ ও মূল বিষয়।
এর আগে, গত রোববার শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তির পরপরই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অসংখ্য তেলবাহী জাহাজ সেখান দিয়ে নিরাপদে চলাচল শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় তেহরানে টানা পনেরো ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর এই প্রাথমিক চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই চুক্তিটিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো নিজেদের এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে প্রচার করছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রমাণ করে দেওয়া হয়েছে যে তাদের সামনে পরাজয় মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
তবে এত কিছুর পরও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের এখনো গভীর অবিশ্বাস বিদ্যমান এবং বর্তমান এই চুক্তিটিকে তারা কেবল চলমান উত্তেজনা হ্রাসের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে।