নিহত যাত্রীরা সবাই শৌখিন প্যারাট্রুপার বা স্কাইডাইভার ছিলেন, যারা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সন্ধানে এই ফ্লাইটে অংশ নিয়েছিলেন। উড়োজাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'স্কাইডাইভ কানসাস সিটি' আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সংবাদ নিশ্চিত করেছে।
বাটলার শহরটি মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের বেটস কাউন্টির অন্তর্গত একটি এলাকা। বেটস কাউন্টির জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক এবং বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ডেনিস জ্যাকব আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।
তিনি জানান, উড়োজাহাজটি ছিল এক ইঞ্জিনের একটি টার্বোপ্রপ প্লেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই উড়োজাহাজটিতে মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
ডেনিস জ্যাকব গণমাধ্যমকে জানান, উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবে আকাশের দিকে উঠতে পারছিল না। আকাশে কয়েক সেকেন্ড সম্পূর্ণ ভারসাম্যহীন অবস্থায় দোদুল্যমান থাকার পর হঠাৎ করেই সেটি তীব্র গতিতে বাম দিকে ঘুরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
মাটিতে আছড়ে পড়ার সাথেই উড়োজাহাজটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, পাইলট এবং উড়োজাহাজে থাকা ১১ জন যাত্রীর কেউই বেঁচে ফিরতে পারেননি, তারা প্রত্যেকেই ঘটনাস্থলে নিহত হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলটি বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে মাত্র ২৭৪ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক ও পরিবহন নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড' বা এনটিএসবি এই ঘটনার পর একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
তারা জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজটি ছিল কোম্পানি প্যাসিফিক অ্যারোস্পেসের তৈরি একটি '৭৫০ এক্সেল' মডেলের বিমান। এটি মূলত ছোট আকারের এবং ব্যক্তিগত বা স্কাইডাইভিংয়ের মতো শৌখিন কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি।
উড়োজাহাজটিতে ঠিক কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তা সঠিকভাবে উদঘাটন করতে এনটিএসবির বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিহত ১২ জনের সবার পরিচয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইতোমধ্যে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় সমগ্র মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে শোকের গভীর ছায়া নেমে এসেছে। মিসৌরির গভর্নর মাইক কেহোয়ে এক বিশেষ বার্তায় নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।