মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি

পুতিন ও শি জিনপিংয়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা ট্রাম্পের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

পুতিন ও শি জিনপিংয়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে অত্যন্ত গঠনমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

দীর্ঘদিনের চলমান বৈরী সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এই দুই প্রভাবশালী বিশ্বনেতার নেপথ্য ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তাঁর এই আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক মহলে ঘোষণা করা হয় যে, কাতার এবং পাকিস্তানের যৌথ ও নিবিড় মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া ১৪ দফার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে টোল ছাড়াই পুনরায় সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল শুরু করা, তেহরানের ওপর দীর্ঘকাল ধরে আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্য হারে শিথিল করা এবং বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার মতো বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরান পুনরায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবে বলে গভীর আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

 

এছাড়া আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত যাবতীয় চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একজন ‘পরিপূর্ণ ভদ্রলোক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে চীন কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উদাহরণস্বরূপ ট্রাম্প বলেন, বেইজিং চাইলেই অবরোধ ভাঙার অজুহাতে ২০টি যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার পরিবেষ্টিত কোনো তেলের ট্যাংকার পাঠাতে পারত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার চরম ঝুঁকি তৈরি করত। কিন্তু চীন অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে সেই পথ এড়িয়ে গেছে।

 

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখতে রাশিয়া শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার বহুমুখী সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

 

মস্কো বরাবরই এই সামরিক হামলাগুলোকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবদমান পক্ষগুলোকে সতর্ক করেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকে পুতিন এবং ট্রাম্প অন্তত তিনবার টেলিফোনে বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

 

ক্রেমলিনের শীর্ষ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মার্চ এবং এপ্রিল মাসের পর সর্বশেষ গত রোববারও চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।

 

উল্লেখ্য, এই চলমান সংকট নিরসনে মস্কো এর আগে একটি বিকল্প পারমাণবিক সমঝোতারও প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার ভূখণ্ডে অত্যন্ত নিরাপদে স্থানান্তর ও সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছিল।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, এই প্রস্তাব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হলেও তেহরান এখনই এটি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। তবে আন্তরিক এই প্রস্তাব এবং সংকট সমাধানে অব্যাহত সহায়তার জন্য তিনি রুশ মিত্রদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

- আরটি