আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, নির্বাসিত এই আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে আফ্রিকার ওই দেশটির কোনো ধরনের পূর্ব-সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চরম দারিদ্র্য, অস্থিতিশীলতা এবং ভয়াবহ সহিংসতায় জর্জরিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের বিষয়ে নাগরিকদের প্রতি সর্বোচ্চ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে রেখেছে।
মার্কিন সরকারের নিজস্ব নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা আছে যে কোনো অবস্থাতেই যেন কেউ দেশটিতে ভ্রমণ না করে। অথচ এমন একটি চরম নিরাপত্তাহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যেই অসহায় আশ্রয়প্রার্থীদের জোরপূর্বক ঠেলে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
সবচেয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয়টি হলো, এই আকস্মিক বহিষ্কারাদেশের আওতায় এমন অনেক অভিবাসী রয়েছেন, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আইনি সুরক্ষা লাভ করেছিলেন।
মানবাধিকার ও অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নিজ দেশে রাজনৈতিক বৈরিতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন, তাদেরও এই বিশেষ বিমানে করে আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে।
এদের মধ্যে ইরান থেকে পালিয়ে আসা অন্তত দুজন নারী রয়েছেন, যারা মার্কিন অভিবাসন আইনে নির্বাসন থেকে বাঁচার এক বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। আদালতের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরেও মার্কিন প্রশাসন সম্পূর্ণ অমানবিক প্রক্রিয়ায় তাদের জোরপূর্বক ওই বিপজ্জনক অঞ্চলে নির্বাসিত করেছে।
এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট আইনজীবী এমিলি ট্রস্টল গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত এই অসহায় আশ্রয়প্রার্থীদের হয়তো আবারো সেই দেশগুলোতেই ফিরে যেতে বাধ্য করা হতে পারে, যেখানকার নির্যাতন থেকে তারা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছিলেন।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠানো অন্যান্য বহিষ্কৃত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার অসংখ্য নজির রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে এই বিতর্কিত বিমানটি তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর যাত্রার পর ১২ জুন বিকেলে বিমানটি আফ্রিকার আরেক দেশ ঘানায় পূর্বনির্ধারিত যাত্রাবিরতি গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ঘানা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসী বহিষ্কার কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যাত্রাবিরতি শেষে ওই দিন গভীর রাতেই বিমানটি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইতে গিয়ে অবতরণ করে। তবে মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী আলমা ডেভিড একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অবতারণা করে জানিয়েছেন, ঘানায় যাত্রাবিরতিকালে কিছু যাত্রীকে সেখানে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, নাকি বিমানের সব যাত্রীকে চূড়ান্ত গন্তব্য মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রেই পাঠানো হয়েছে, সেই বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে চরম ধোঁয়াশা বিরাজ করছে।