মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে নতুন চুক্তি একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর, ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে নতুন চুক্তি একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর, ট্রাম্প
ছবি : File Photo

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে যে নতুন চুক্তির আলোচনা চলছে, তা কোনোভাবেই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

 

তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এই চুক্তির অধীনে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, আর যদি তারা এই বেআইনি পথে হাঁটার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করে, তবে তারা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

চলমান এই নতুন চুক্তির কার্যকারিতা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, এই চুক্তিটি মূলত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সমস্ত সম্ভাব্য পথের মাঝে একটি অত্যন্ত মজবুত ও অভেদ্য প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে।

 

তাঁর মতে, কোনো ফাঁকফোকর গলে তেহরানের পক্ষে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করা এখন আর একেবারেই সম্ভব হবে না। মার্কিন প্রশাসন এই চুক্তির মাধ্যমে কেবল পারমাণবিক বিস্তারই রোধ করতে চাইছে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে একটি স্থায়ী ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাইছে।

 

নতুন এই চুক্তির পক্ষে নিজের অনড় অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করতেও ছাড়েননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

তিনি ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওবামা আমলের সেই বহুল আলোচিত চুক্তিটিকে আগাগোড়াই একটি ‘ভয়াবহ ত্রুটিপূর্ণ’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

 

ট্রাম্পের সুস্পষ্ট দাবি, ২০১৫ সালের ওই চুক্তিটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বদলে উল্টো তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত মসৃণ পথ তৈরি করে দিয়েছিল।

 

তিনি মনে করেন, অতীতের সেই ভুল ও দুর্বল নীতির কারণেই আজ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এত বেশি নাজুক ও জটিল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের সম্পর্ককে নতুন একটি মাত্রায় নিয়ে গেছে।

 

একদিকে তিনি যেমন কূটনীতির মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলছেন, অন্যদিকে সামরিক বা চূড়ান্ত ধ্বংসের প্রচ্ছন্ন হুমকিও সমানভাবে বজায় রেখেছেন।

 

বিশ্বনেতারা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, এই কঠোর শর্তাবলি ও হুঁশিয়ারির মাঝে ইরান শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং এই নতুন চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাস্তবে কতটা টেকসই ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

আল জাজিরা