রবিবার এবিসি নিউজের জনপ্রিয় আলোচনা অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওবামা এই কূটনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা এবং সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে যেকোনো কূটনৈতিক সমঝোতা বা আলোচনার বিকল্প নেই, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো চুক্তির কার্যকর সাফল্য নিয়ে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ওবামার মতে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে সফলভাবে কার্যকর ছিল এবং তা অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো চুক্তির মাধ্যমে আগের সেই সাফল্যের চেয়ে ভালো কোনো ফলাফল অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, সেই রেশ এখনো কাটেনি। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি নতুন শান্তি চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছে।
যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, তবুও তেহরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইরানি নেতারা বারবারই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এই আলোচনার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন।
ওবামা তার বক্তব্যে এই চলমান টানাপোড়েন ও সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, কেবল চাপ সৃষ্টি, অবরোধ আরোপ বা সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
বরং যেকোনো সংকট নিরসনে প্রয়োজন ব্যাপক ও ধৈর্যশীল কূটনৈতিক উদ্যোগ। ওবামা আফসোস করে বলেন, বহু বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধানে এই মৌলিক কূটনৈতিক শিক্ষাটি যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ও ইরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে কি না, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।