মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল পুনর্গঠন তহবিল পেতে পারে ইরান- জেডি ভ্যান্স

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল পুনর্গঠন তহবিল পেতে পারে ইরান- জেডি ভ্যান্স
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তাবলি সম্পূর্ণভাবে মেনে চললে ইরান নিজেদের দেশ পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশাল তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি এমন একটি জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পালন করলে তেহরানের সামনে দীর্ঘদিন পর আবারও মূলধারার বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হবে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে, এই বিশাল আর্থিক তহবিলটি মূলত ‘গালফ কোস্ট কোয়ালিশন’-এর অর্থায়নে গঠিত হবে।

 

তবে এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সুবিশাল তহবিলে প্রবেশের অধিকার পাওয়ার বিনিময়ে ইরানকে তাদের বিতর্কিত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি থেকে চিরতরে এবং সম্পূর্ণভাবে সরে আসতে হবে।

 

ভ্যান্সের মতে, চুক্তির শর্তাবলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে আগামী দিনে উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে প্রবল আগ্রহী হবে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে।

 

এই চুক্তির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা স্বাভাবিকভাবেই চুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো এবং অর্থনৈতিক প্রাপ্তিগুলো নিজেদের জনগণের কাছে বড় করে তুলে ধরবেন।

 

কিন্তু এর বিনিময়ে তেহরানকে পারমাণবিক ক্ষেত্রে যে বিশাল ও কৌশলগত ছাড় দিতে হয়েছে, তা তারা তুলনামূলকভাবে আড়াল করার চেষ্টা করবেন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের দাবি করা ২৪ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তিনি পরিস্থিতি স্পষ্ট করেন।

 

ভ্যান্স জানান, চুক্তির দলিলে এই নির্দিষ্ট অঙ্কের কোনো উল্লেখ নেই; তবে যুক্তরাষ্ট্র এই জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এই চুক্তির অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে কিছুটা অসন্তোষের গুঞ্জন থাকলেও জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন যে, চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইসরায়েলেরও পছন্দ হয়েছে।

 

খুব শিগগিরই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে প্রকাশ করা হবে, যা পুরো অঞ্চলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ করবে বলে মার্কিন প্রশাসন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

 

গালফ কোস্ট কোয়ালিশন এটিকে কেবল সাময়িক কোনো বিষয় নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সম্পূর্ণ ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে, যেখানে ইসরায়েলেরও একটি সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত থাকবে।

 

এই চুক্তির তাৎক্ষণিক সুফল হিসেবে এরই মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমতে শুরু করেছে।

 

পরিশেষে ভ্যান্স এই চুক্তির অত্যন্ত কঠোর ‘দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ার’ ওপর জোর দেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে।

 

এখন ইরানের সামনে কেবল দুটি পথই খোলা রয়েছে-হয় তারা পারমাণবিক অস্ত্রের মোহ পুরোপুরি ত্যাগ করে একটি নিষেধাজ্ঞামুক্ত ও স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্ত হবে, নয়তো চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় গোটা বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

 

দীর্ঘমেয়াদে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা ব্যবহার করতে না পারে, এই চুক্তিতে সেই কৌশলগত নিশ্চয়তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

দ্য টেলিগ্রাফ